• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 31 July, 2026

তেলেঙ্গানায় আজহারউদ্দিন ও কোদান্দারাম বিধান পরিষদের সদস্য মনোনীত, আইনি জটের ছায়া

সংবিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হতে হত, নইলে মন্ত্রিত্ব বজায় রাখা সম্ভব হতো না।

তেলেঙ্গানায় আজহারউদ্দিন ও কোদান্দারাম বিধান পরিষদের সদস্য মনোনীত, আইনি জটের ছায়া

তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল শিব প্রতাপ শুক্লা রবিবার রাজ্যের মন্ত্রী মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন এবং অধ্যাপক এম কোদান্দারামকে বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন। তবে এই মনোনয়ন সংক্রান্ত সমস্ত আইনি আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির উপরই তা নির্ভরশীল থাকবে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়া সদস্য ডি রাজেশ্বর রাও এবং ফারুক হুসেনের পরিবর্তে এই দুই ব্যক্তিকে মনোনীত করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের ক্ষেত্রে এই মনোনয়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ৩১ অক্টোবর তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হতে হত, নইলে মন্ত্রিত্ব বজায় রাখা সম্ভব হতো না। ফলে এই সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি গত ১৯ এপ্রিল রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এই দুই নামের অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর আগে গত বছর আগস্ট মাসে তেলেঙ্গানা মন্ত্রিসভা তাঁদের নাম রাজ্যপালের কোটায় মনোনয়নের জন্য পাঠায়।

তবে এই মনোনয়নকে ঘিরে আইনি জটিলতাও রয়েছে। পূর্বে এই ধরনের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই ধরনের নিয়োগ চূড়ান্তভাবে বিচারাধীন মামলার ফলাফলের উপর নির্ভর করবে। এর আগে একই ধরনের বিতর্কে অধ্যাপক কোদান্দারাম ও আমের আলি খানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি উচ্চ আদালতও কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় এবং সুপারিশ পুনর্বিবেচনার কথা বলে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মনোনয়ন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আজহারউদ্দিনের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেস সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, তেলেঙ্গানার বিধান পরিষদে নতুন দুই সদস্যের অন্তর্ভুক্তি হলেও আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।