• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 23 June, 2026

‘ছেলের স্মৃতি আমার চোখে সারাজীবন…’, আগুনে পুড়ে ছাই অনামিকা ও নীলেশের স্বপ্ন

দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিণত হয়। পরিবারের সদস্যরা অনামিকা ও নীলেশের বিয়ে ঠিক করেন।

বাড়িতে জোরকদমে চলছিল বিয়ের তোড়জোড়। চলতি বছরের নভেম্বরেই নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল অনামিকা সামন্ত(৩০) ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমার(২৭)-এর। কিন্তু সোমবার লখনউয়ে তাঁদের সেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেল। দুই বাড়িতেই এখন শোকের ছায়া।

জানা গিয়েছে, অনামিকা কলকাতার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তিনি লখনউতে থাকতেন। তবে নীলেশ লখনউয়ের বাসিন্দা। লখনউয়ে একটি অ্যানিমেশন সংস্থায় তাঁরা কাজ করতেন। সেখানেই সহকর্মী নীলেশের সঙ্গে অনামিকার পরিচয় হয়। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিণত হয়। পরিবারের সদস্যরা অনামিকা ও নীলেশের বিয়ে ঠিক করেন।

দুই বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হতেই গত সপ্তাহে অনামিকার বাবা-মা কলকাতা থেকে লখনউয়ে নীলেশের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পরিবার মিলে ছোট একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছিল। আগামী সপ্তাহে নীলেশের বাবা-মায়ের কলকাতায় আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকযাত্রায়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিন ভাই-বোনের মধ্যে নীলেশ দ্বিতীয়। তিনি খুব মেধাবী এবং মনোযোগী ছিলেন। সম্প্রতি কর্মক্ষেত্রে তাঁর পারিশ্রমিক বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। নীলেশ নতুন বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন। এর জন্য তিনি টাকাও জমিয়েছিলেন।

সোমবার লখনউয়ে যে বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছিল তাঁর দোতলায় ছিল একটি স্টুডিও। সেখানেই নীলেশ ও অনামিকা একসঙ্গে কাজ করতেন। জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময়ে দু’জনেই সেই স্টুডিওতে ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময়ে তাঁরা কোন পরিস্থিতিতে ছিলেন, তা জানা যায়নি। অনামিকার বাবা একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আর তাঁর মা গৃহবধূ। অনামিকা ছাড়াও তাঁদের এক ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পরে নীলেশের বাবা প্রশাসনের উপরে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেদিনের অগ্নিকাণ্ডের পরে তাঁর জীবনে যে বড় ক্ষতি হয়ে গেল সেটা কি ক্ষতিপূরণ দিয়ে মেটানো সম্ভব?

তিনি বলেছেন, ‘আমার ছেলে সেদিন মুখে হাসি নিয়ে বাড়ি থেকে কাজের জন্য বেরিয়েছিল। আমি কখনও ভাবতে পারিনি গতকালই আমি আমার ছেলেকে শেষবারের মতো সামনে থেকে দেখছি। শেষবার তাঁকে যে দেখেছিলাম, সেই স্মৃতিই আমার চোখে সারাজীবন থেকে যাবে।’ এর পাশাপাশি তিনি জানান, যতোই এই ঘটনার তদন্ত হোক না কেন, কেউই তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না।