বয়স ১০২। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা মাত্র ৩৫ শতাংশ। তার উপর কোমরের হাড়ে চিড়। এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার করা কতটা ঝুঁকির, তা একমাত্র চিকিৎসকরাই ভালো জানেন। এমন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই অস্ত্রোপচার হল শিলিগুড়ির সেঞ্চুরি পার করা লেখিকা মুকুল দাসের। বঙ্গীয় সাহিত্য সমাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত এই শতায়ু লেখিকা এখন সুস্থ। একু হেল্প নিয়ে হাঁটাচলাও করছেন।
পড়ে গিয়ে ভাঙল হাড়
সম্প্রতি ট্রোক্যান্টেরিক হিপ ফ্র্যাকচারে (trochanteric hip fracture) ভয়ঙ্কর আহত হন মুকুল দাস। শিলিগুড়ির মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দেখা যায়, তাঁর হৃদযন্ত্রেও গুরুতর সমস্যা রয়েছে। কার্ডিওমায়োপ্যাথি (cardiomyopathy) এবং লেফট ভেন্ট্রিকুলার ডায়াস্টোলিক ডিসফাংশনে (left ventricular diastolic dysfunction) ভুগছিলেন তিনি। এই বয়সে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকলে জটিলতা আরও বাড়তে পারত, তাই অস্ত্রোপচার ছাড়া বিকল্প পথ খোলা ছিল না বলেই মত চিকিৎসকদের।
ঝুঁকি জেনেও এগোনো
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অর্থোপেডিক সার্জন ডা. পঙ্কজ কুমারের নেতৃত্বে গঠিত হয় একটি মেডিক্যাল টিম। রোগীর বয়স, হাড়ের অবস্থা আর হৃদযন্ত্রের ইজেকশন ফ্র্যাকশন (ejection fraction) মাত্র ৩৫ শতাংশ হওয়ায় গোটা পরিকল্পনাটাই ছিল অত্যন্ত সুচিন্তিত সতর্কতার সঙ্গে সাজানো। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকি বুঝিয়ে বলার পরই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডা. কুমার। গোটা প্রক্রিয়া চলাকালীন সব প্যারামিটারে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছিল।
অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ডা. টিকা নাথ শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, ইজেকশন ফ্র্যাকশন কম থাকায় অ্যানাস্থেসিয়ার প্রয়োগ ছিল সবচেয়ে স্পর্শকাতর এবং ঝুঁকির বিষয়। অস্ত্রোপচারের আগে সবিস্তারে পরীক্ষার পর হৃদযন্ত্রের অবস্থা মাথায় রেখেই অ্যানাস্থেসিয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচার চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
চার দিনেই বাড়ি
অস্ত্রোপচারের পর মুকুল দাসের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। প্রথমে ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসতে পারেন তিনি, পরে সহায়তা নিয়ে হাঁটাও শুরু করেন। চার দিন পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়, সঙ্গে নিয়মিত ফলোআপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণ রোগীদের ক্ষেত্রে হিপ ফ্র্যাকচারের মতো সমস্যায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকলে যে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা এড়াতে অস্থি শল্য চিকিৎসা, অ্যানাস্থেসিয়া ও পুনর্বাসন দলের সমন্বিত প্রচেষ্টাই মূল ভরসা। ১০২ বছরে লড়াই করে মুকুল দাস দেখিয়ে দিলেন মনের জোরে সবই সম্ভব। আর মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা বোঝালেন, মানবিকতা, প্রযুক্তি ও মেধার সমন্বয়ে অসাধ্যসাধন সম্ভব।




