• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 21 July, 2026

দেশ দাপাচ্ছে কোভিডের নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন আরএফ ৫: বিপদে একের পর এক শহর, ফের ফিরছে কড়াকড়ি?

অন্ধ্রপ্রদেশে মিলেছে ওমিক্রনের নতুন উপপ্রজাতি আরএফ ৫। কোভিডের এই নতুন স্ট্রেন থাবা বসিয়েছে কলকাতায়। চিকিৎসকদের মতে বাড়তি বিপজ্জনক নয়, তবে সতর্কতা জরুরি। উপসর্গ ও ঝুঁকি নিয়ে বিশদে।

দেশ দাপাচ্ছে কোভিডের নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন আরএফ ৫: বিপদে একের পর এক শহর, ফের ফিরছে কড়াকড়ি?

Covid Returns In India (Magnific)

ফের একবার দেশের করোনা-চিত্রে নতুন মাথাব্যথার নাম, ওমিক্রনের (Omicron) নয়া উপপ্রজাতি আরএফ ৫ (RF.5)। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক নমুনায় মিলেছে এই নতুন স্ট্রেনের হদিশ। কলকাতাও বিপদের বাইরে নেই। এখনই আক্রান্তের সংখ্যা ৪। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিন করোনা আক্রান্ত। অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি আরও এক কিশোর। সকলেরই মূল উপসর্গ জ্বর-শ্বাসকষ্ট-গলাব‌্যাথা-মারাত্মক কাশি। যা নতুন করে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এই নতুন প্রজাতি কি আগের তুলনায় বেশি সংক্রামক বা বিপজ্জনক? চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অবশ্য আপাতত বার্তা একটাই, এতটা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই, তবে সতর্ক থাকা জরুরি।

কোথা থেকে মিলল আরএফ ৫

অন্ধ্রপ্রদেশের কড়পা জেলা থেকে সংগৃহীত চারটি করোনা পজিটিভ নমুনা পাঠানো হয়েছিল পুণের একটি ভাইরোলজি গবেষণাগারে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের (genome sequencing) পরে সেখানেই ধরা পড়ে ওমিক্রনের এই নতুন উপপ্রজাতির উপস্থিতি। অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬টি করোনা সংক্রমণের খবর মিলেছে, যার মধ্যে ১২ জুলাই পর্যন্ত ১২টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা হাসপাতালগুলিতে বিশেষ ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টেস্টিং কিট মজুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কতটা বিপজ্জনক

অন্ধ্রপ্রদেশের মেডিক্যাল এডুকেশন ডিরেক্টর ডা. বিষ্ণুবর্ধন সাফ জানিয়েছেন, বর্তমানে হাতে থাকা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী আরএফ.৫ অন্যান্য ওমিক্রন প্রজাতির তুলনায় বেশি বিপজ্জনক, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। তাঁর কথায়, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু সতর্কতা বজায় রাখাই যথেষ্ট। উপসর্গ হিসেবে জ্বর, গলাব্যথা, কাশি, মাথাব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা এবং সর্দি-নাক বন্ধের মতো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে, যা অন্যান্য ওমিক্রন প্রজাতির উপসর্গের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যাচ্ছে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিপিন এম বশিষ্ঠ সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, জেএন ১ (JN.1) প্রজাতি থেকে এলএফ ৭ (LF.7) হয়ে পিওয়াই ১.১.১ (PY.1.1.1) শাখা ধরে বিবর্তিত হয়েছে এই আরএফ.৫ প্রজাতি এবং এটি কোনও রিকম্বিন্যান্ট (recombinant) ভ্যারিয়েন্ট নয়। তাঁর সংযোজন, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ নেই যে আরএফ ৫ অন্য প্রচলিত ওমিক্রন প্রজাতির তুলনায় বেশি গুরুতর অসুখ ঘটাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organisation বা WHO) তরফেও নিয়মিত জিনোমিক নজরদারির অংশ হিসেবে এই প্রজাতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও ছড়িয়েছে

শুধু ভারত নয়, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় ধরা পড়েছে আরএফ ৫ প্রজাতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রজাতিকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক জিনোমিক নজরদারির (genomic surveillance) আওতায় রেখেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ থেকেই এমন তথ্য মেলেনি যাতে বলা যায়, এই প্রজাতি ফুসফুসে বেশি গুরুতর সংক্রমণ ঘটাচ্ছে বা হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মৃত্যুর নেপথ্যে

অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যে ১২টি সংক্রমণ এবং চারটি মৃত্যুর খবর মিলেছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বক্তব্য, মৃত চার জনেরই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস বা কিডনির অসুখের মতো আগে থেকে থাকা গুরুতর শারীরিক সমস্যা ছিল। অর্থাৎ, একেবারে সুস্থ শরীরে আরএফ ৫ সংক্রমণে প্রাণহানির নজির এখনও সামনে আসেনি, বরং যাঁদের আগে থেকেই জটিল অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তুলনায় বেশি বলে ইঙ্গিত মিলছে।

সতর্কতাই হাতিয়ার

চিকিৎসকদের পরামর্শ, নতুন প্রজাতি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে জ্বর, সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রবীণ ও সহ-রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। ভিড় এলাকায় মাস্ক ব্যবহার এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখার মতো অভ্যাসগুলিও এখনও সমান জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।