লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মতো কার্তিক ও গণেশও দুর্গার সঙ্গে মর্ত্যে আসেন। মায়ের সঙ্গে চারদিন কাটিয়ে যান। সঙ্গে থাকে তাঁদের বাহন। লক্ষ্মী ও সরস্বতীর বাহনের সঙ্গে যেমন পৌরাণিক কারণ জড়িয়ে রয়েছে ঠিক তেমনি কার্তিক এবং গণেশের সঙ্গেও রয়েছে একাধিক পৌরাণিক গল্প।
দেবসেনাপতি হলেন কার্তিক। তারকাসুরের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেবতারা একজন দেবসেনাপতির খোঁজ চালাচ্ছিলেন। সেই কারণে মহাদেবের শরণাপন্ন হন তাঁরা। তপস্যা ভেঙে একটা পুত্র যাতে তিনি উপহার দেন সেই প্রার্থনা করেন। মহাদেব সম্মতি দেন। পার্বতীর কাছে মহাদেব যাওয়ার আগেই দেবাতারা তাঁর কাছে পৌঁছে যান।
তাতে মহাদেব রেগে যান। তাঁর তেজ গিয়ে পড়ে পৃথিবীর উপর। ধরিত্রী এই তেজ সহ্য করতে না পেরে তা অগ্নিতে নিক্ষেপ করেন। অগ্নি সেই তেজ শরবনে নিক্ষেপ করেন। আর সেখানেই জন্ম হয় কার্তিকের। অগ্নির ছয় পত্নী কৃত্তিকা ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা শিশুটিকে নিয়ে যান এবং নাম রাখেন কার্তিক। তিনিই হন দেবসেনাপতি।
তিনি সৈন্যদলের একদম সামনে থাকেন। আর তাঁর বাহন হল ময়ূর। এই পাখি যেমন তৎপর তেমনি দেখতে সুন্দর। ময়ূর সেভাবে ঘুমোয় না। সর্বদা সতর্ক এবং আলস্যহীন। ময়ূরের স্বজনপ্রীতিও লক্ষণীয়। সৈনিক পুরুষ ময়ূরের মতো অনলস, কর্মকুশল।
অসাধারণ কর্মতৎপর এই পাখি খুবই সুন্দর দেখতে। সৈনিক পুরুষের নানা গুণ ময়ূরকে বাহন করতে সাহায্য করেছে। ময়ূর খুব সামান্যই ঘুমোয়। সর্বদা সতর্ক থাকে এবং আলস্যহীন। ময়ুরের স্বজনপ্রীতি লক্ষণীয়।
ক্ষত্রিয়ের যা যা গুণ থাকা উচিত অর্থাৎ যুদ্ধ, স্বজনপ্রীতি, স্ত্রী রক্ষা – সবই ময়ূরের মধ্যে রয়েছে। যে পুচ্ছের জন্য ময়ূর নজর কাড়ে, সেটিকেই কিন্তু সে ঢাল হিসেবেও ব্যবহার করে। একই সঙ্গে ময়ূর হিংস্র। সাপের সঙ্গে যুদ্ধে তার কৌশল দেখার মতো। সম্ভবত এই সমস্ত কারণেই ময়ূর কার্তিকের বাহন।
কার্তিকের সঙ্গে গণেশও দুর্গার সঙ্গে মর্ত্যে আসেন। পেট পোটা গণেশ দাদার সঙ্গে থাকে তাঁর ছোট বাহন ইঁদুর। এই বাহন নিয়েও রয়েছে একাধিক কাহিনি। পুরাণ অনুসারে, গজমুখ নামে এক শক্তিশালী অসুর ছিল। যে দেবতাদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিল। গজমুখকে পরাস্ত করতে হবে। তার জন্য সবাই গণেশের কাছে যান। গণেশের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ শুরু হয়।
গজমুখকে কোনও অস্ত্র দিয়েই পরাস্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। গণেশ নিজের একটি দাঁত ভেঙে গজমুখের দিকে ছুঁড়ে মারে। সেই দাঁতের আঘাতে গজমুখ পরাস্ত হন এবং গণেশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গজমুখ ইঁদুরের আকার ধারণ করেন এবং গণেশের বাহন হন।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: প্যাঁচা কেন লক্ষ্মীর বাহন? আর রাজহাঁস সরস্বতীর?
অন্যমতে ক্রৌঞ্চ নামে এক গন্ধর্ব ছিলেন। নিজের প্রতিভা নিয়ে তাঁর খুব অহংকার ছিল। একবার তিনি ঋষির পায়ের উপর দিয়ে হেঁটে যান। ঋষি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে একটি বিশাল ইঁদুর হওয়ার অভিশাপ দেন। ক্রৌঞ্চ ইঁদুর হয়ে পৃথিবীতে চলে আসেন।
পৃথিবীতে এসে মানুষের ফসল ও সম্পদ নষ্ট করতে শুরু করেন। ক্রৌঞ্চ গণেশের আশ্রমেও হানা দেন। গণেশ তাঁকে শায়েস্ত করেন। ক্রৌঞ্চ নিজের ভুল বুঝে ক্ষমা চান। গণেশ তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং তাঁর বাহন হওয়ার আশীর্বাদ দেন। এই দুই গল্পই গণেশের বাহন হওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/UbdrBzAThdg?si=HmeGaVaMJj_kbBhh” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>