• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 16 October, 2026

শরৎ এল রে: ২৯২ বছরের পুরনো আসানসোল গ্রামের এই পুজো, ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানার মিশেলে ৯টি দুর্গাপুজো হয় একসঙ্গে

সপ্তমীর সকালে একসঙ্গে ৯ টি দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা স্নান বা কলা বউ আনা হয়। পুজোর শেষে দশমীর সন্ধ্যায় ৯টি পুজোর প্রতিমা বিসর্জনও শোভাযাত্রা সহকারে করা হয়

শরৎ এল রে: ২৯২ বছরের পুরনো আসানসোল গ্রামের এই পুজো, ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানার মিশেলে ৯টি দুর্গাপুজো হয় একসঙ্গে

Image: SNS

আসানসোল শহরের মধ্যে রয়েছে আসানসোল গ্রাম। এই আসানসোল গ্রামে একসঙ্গে ৯টি দুর্গাপুজো (Durga Puja) হয়। প্রতিযোগিতা ও আধুনিকতার মধ্যে ২৯২তম বর্ষেও আসানসোল গ্রামের ৯ টি দুর্গাপুজো (Durga Puja) এখনও তাঁর সাবেকিয়ানা ও রীতি বহন করে চলেছে। সপ্তমীর সকালে একসঙ্গে ৯ টি দুর্গাপুজোর (Durga Puja) নবপত্রিকা স্নান বা কলা বউ আনা হয়। পুজোর শেষে দশমীর সন্ধ্যায় ৯টি পুজোর প্রতিমা বিসর্জনও শোভাযাত্রা সহকারে করা হয়। প্রতিমা বিসর্জ্জনের আগে আসানসোল গ্রাম সংলগ্ন রামসায়ের ময়দানে আতসবাজির প্রদর্শন করা হয়।

এই আতশবাজির প্রদর্শনীর পরেই রামসায়ের পুকুরে একে একে ৯টি দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন দেওয়া হয়। আসানসোল গ্রামের এই দুর্গার পুজোয় দশমী সকালে সিঁদুরখেলার একটি আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। এবছরও তার কোনও ব্যতিক্রম হবে না। ৯টি পুজোর (Durga Puja) মধ্যে মাত্র ২টি পুজোয় ছাগ বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে। চারদিনের পুজো হয় পুরনো রীতি ও আচার মেনে।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ইতিহাসের সাক্ষী জঙ্গলমহলের গ্রাম, লালজলে প্রথমবার দুর্গাপুজোর দায়িত্বে মহিলারা

আসানসোল গ্রাম দুর্গাপুজো (Durga Puja) কমিটি ও আসানসোল গ্রাম নীলকন্ঠেশ্বর জিউ দেবোত্তর ট্রাস্টের সভাপতি শচীন রায় বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানার ধাঁচে  ৯টি দুর্গাপুজোর প্রতিমা তৈরি হয়। এবারেও তার কোনও অন্যথা হয়নি। গ্রামের ৯টি পুজোর নবপত্রিকা একসঙ্গে স্নান করিয়ে গরাই রোডের রামসায়ের পুকুর থেকে আনা হয়।

দশমীর সকালে সিঁদুর খেলা হয়। গ্রামের সব মহিলারাই সেই সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। দশমীর সন্ধ্যায় রীতি মেনে প্রতিমা বিসর্জন হয়।শচীন রায় আরও বলেন, এই ৯টি পুজোর নবপত্রিকা স্নান করানো-সহ সবকিছুই এতো বছর ধরে একসঙ্গে হয়ে এসেছে। এসব দেখতে বহু মানুষের ভিড়ও করেন। বলির পর পুজো মণ্ডপে মহাভোগ খেতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। সবাই নিজেদের মতো করে পুজোর আনন্দে সামিল হন।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: উমা চারদিন বাপের বাড়িতে থাকলে মহাদেব কি তাঁকে চোখে হারান?

তিনি বলেন, পুরনো সবকিছুই মেনে এখনও পুজো হওয়ায় আসানসোল গ্রামের মানুষেরা যারা এইসব পুজোর সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে রয়েছেন তারা খুবই খুশি। শচীনবাবুর কথাতেই জানা যায়, প্রায় ৩০০ বছর আগে আসানসোলের প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন নকড়ি রায় ও রামকৃষ্ণ রায়। বর্গীদের হাত থেকে রাঢ়বাংলাকে বাঁচিয়েছিলেন পঞ্চকোট রাজার এই দুই বীর সেনানী। বর্তমানে এই রায় পরিবারের সদস্য সংখ্যা সব মিলিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি।

আসানসোল গ্রাম, বুধা গ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছেন রায় পরিবারের সদস্যরা। পুরনো ইতিহাস বলে, ঠিক ২৯৩ বছর আগে এই গ্রামে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন রামকৃষ্ণ রায় ও নকড়ি রায়। পরবর্তীকালে পরিবার বড় হয়। যে কারণে পুজোর সংখ্যাও বাড়ে৷ এখন ৯টি দূর্গাপুজো হয় এই আসানসোল গ্রামে। বড় দুর্গা, মেজ দুর্গা, ছোট দুর্গা নানা নামে পরিচিত রয়েছে আসানসোল গ্রামের পুজোগুলি।

দেখুন: