• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

‘মাই লর্ড’ থামাতে আইনজীবীকে অর্ধেক বেতন দিতে চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

দিল্লি, ৩ নভেম্বর– শব্দটির ব্যবহার সেই ইংরেজ আমল থেকে৷ শব্দটি হল ‘মাই লর্ড’৷ তবে অনেকের কাছেই এটি দাসত্বের ইঙ্গিতবাহী৷ ব্যবহার হয় কোর্ট চত্বরেই৷ যদিও মাই লর্ডের পরিবর্তে অনেক আদালতে ‘স্যার’ বা ‘ইওর অনার’ ব্যবহার করা হয়৷ কিন্ত এই ‘মাই লর্ড’ শব্দ যে এতটা বিরক্তিকর হতে পারে যার যেরে নিজের অর্ধেক বেতন পর্যন্ত দিতে রাজী হয়ে যাবেন

‘মাই লর্ড’ থামাতে আইনজীবীকে অর্ধেক বেতন দিতে চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

দিল্লি, ৩ নভেম্বর– শব্দটির ব্যবহার সেই ইংরেজ আমল থেকে৷ শব্দটি হল ‘মাই লর্ড’৷ তবে অনেকের কাছেই এটি দাসত্বের ইঙ্গিতবাহী৷ ব্যবহার হয় কোর্ট চত্বরেই৷ যদিও মাই লর্ডের পরিবর্তে অনেক আদালতে ‘স্যার’ বা ‘ইওর অনার’ ব্যবহার করা হয়৷ কিন্ত এই ‘মাই লর্ড’ শব্দ যে এতটা বিরক্তিকর হতে পারে যার যেরে নিজের অর্ধেক বেতন পর্যন্ত দিতে রাজী হয়ে যাবেন বিচারপতি তা কিন্তু বেশ আশ্চর্যের৷
ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের৷ একটি মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে বার বার ‘মাই লর্ড’, ‘ইয়োর লর্ডশিপ’ এতবার বলে ফেলেন আইনজীবী যে তাতেই বিরক্ত হয়ে যান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি এস নরসীমা৷ এমনকী এতটাই অসন্ত্তষ্ট হন যে ‘মাই লর্ড’ বলা বন্ধ করলে আইনজীবীকে অর্ধেক বেতন দেওয়ার কথা বলেন তিনি৷
আসলে আইন হোক কিংবা বিচার ব্যবস্থর বিভিন্ন রীতিনীতি, সব কিছুতেই এখনও বৃটিশ আমলের প্রভাব রয়েছে৷ যার অন্যতম হল, আদালত কক্ষে ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইওর লর্ডশিপ’ বলে সম্বোধন করা৷ যদিও পরে এই অলিখিত নিয়ম প্রায় শিথিল হয়ে যায়৷ কিন্ত্ত অনেক আইনজীবীই এখনও  এই সম্বোধন করে থাকেন৷
গত বুধবার শীর্ষ আদালতে বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি এএস বোপান্নার ডিভিশন বেঞ্চে একটি মামলার শুনানি চলছিল৷ সংশ্লিষ্ট মামলাতেই এক প্রবীণ আইনজীবী বিচারপতি নরসিংহকে বার বার ‘মাই লর্ড’ বলে সম্বোধন করছিলেন৷ তাতেই বিরক্ত হয়ে যান বিচারপতি৷ আইনজীবীকে তিনি বলেন, ‘আর কত বার আপনি আমাকে ‘মাই লর্ড’ বলবেন? আপনি যদি এটা বলা বন্ধ করেন, তবে আমি আপনাকে আমার অর্ধেক বেতন দিয়ে দেব৷’ শুধু তাই নয়, কেন তাঁকে ‘স্যর’ বলে সম্বোধন করা হচ্ছে না, এদিন সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি৷
উল্লেখ্য  ২০০৬ সালে, ‘বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’র পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাশ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিচারকদের কোনও উকিল আর ‘মাই লর্ড’ এবং ‘ইয়োর লর্ডশিপ’ বলে সম্বোধন করবেন না৷ তার পরিবর্তে ‘স্যর’ বলে সম্বোধন করা হবে স্থির হয়েছিল৷ যদিও তারপরেও সেই সিদ্ধান্ত খাতায়-কলমে থেকে গিয়েছে৷ আদালতকক্ষে বিচারক কিংবা বিচারপতিকে সম্বোধনের পুরনো প্রথা এখনও মেনে চলেন অনেকেই৷