শরৎ এল রে: কামারপুকুরের লাহাবাড়ির পুজোয় গদাধরের হাতে দেবীর চক্ষুদান, আজও অমলিন রামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি

Image: AI নির্মিত

কামারপুকুরের লাহাবাড়ির সঙ্গে জড়িযে রয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নানা স্মৃতি। তাঁর শৈশব জড়িয়ে রয়েছে এই পুজোর (Durga Puja) সঙ্গে। জমিদার ধর্মদাস লাহা এই পুজো শুরু করেন। কয়েক শতক পরেও সেই ঐতিহ্য় বয়ে চলেছে।লাহাবাড়ির বর্তমান প্রজন্মের সদস্য কৃষ্ণেন্দু লাহা। তিনি স্টেটসম্যানকে বলেন, ধর্মদাস লাহার প্রতিষ্ঠিত পাঠশালায় পড়াশোনা করতেন বালক গদাধর। সেই পাঠশালার চত্বরেই হত দুর্গাপুজো। ছোটবেলা থেকেই অন্যদের তুলনায় আলাদা ছিলেন গদাধর।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দেবীপক্ষ কী এবং তার গুরুত্ব কী জানেন?

শাস্ত্রপাঠ কিংবা ভজন শুনতে শুনতে তিনি ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়তেন। নরম মাটি দিয়ে দেবদেবীর মূর্তি গড়তেন। আর তাতে এমনভাবে রং দিতেন যে তা জীবন্ত হয়ে উঠত। কখনও রাম, কখনও শিবের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করত সকলকে। গদাধরের অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ দেখেই ধর্মদাস লাহা দুর্গাপুজোর (Durga Puja) চার দিন যাত্রাপালার আয়োজন করেন। সেই ঐতিহ্য আজও অক্ষুণ্ণ। পুজোর চার দিনই লাহাবাড়িতে বসে যাত্রাপালার আসর।


এই পুজোর (Durga Puja) স্মরণীয় বিষয় হল দেবী দুর্গার চক্ষুদান। লাহা পরিবারের সদস্যদের মুখে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পাঠশালার চত্বরে প্রতিমা তৈরির সময় শিল্পী বার বার দেবীর চোখ আঁকতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তখন গদাধরের শিল্পপ্রতিভার কথা মনে করে পরিবারের লোকজন তাঁকে ডেকে বলেন, ‘এসো গদাধর, মায়ের চোখ এঁকে দাও।’ বালক গদাধর নিখুঁত ভাবে দেবীর চোখ এঁকে দেন। উপস্থিত সকলের মনে হয়েছিল,  জীবন্ত মা দুর্গা (Durga Puja) তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো): লস এঞ্জেলসের দক্ষিণীর দুর্গাপুজোয় এক টুকরো বাংলা

সময়ের সঙ্গে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, বদলে গিয়েছে চারপাশের পরিবেশ। কিন্তু লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) গদাধরের স্মৃতি আজও অমলিন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও আগলে রেখেছেন সেই স্মৃতি ও বিশ্বাস।

কৃষ্ণেন্দু লাহার কথায়, দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সময় পরিবারের সদস্যেরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, সকলে একত্রিত হন মায়ের আশীর্বাদ নিতে। পরিবারের দুই গৃহবধূ রূপালি লাহা ও বৈশাখী লাহাও মনে করেন, এমন এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তাঁরা ধন্য। তাঁদের বিশ্বাস, যে মাটিতে একদিন বালক গদাধর দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, সেই মাটির স্পর্শ  ভক্তদের কাছে পরম প্রাপ্তি। তাই শুধু পুজোর চার দিন নয়, সারা বছরই বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও পর্যটকেরা কামারপুকুরের লাহাবাড়িতে আসেন। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি রামকৃষ্ণদেবের বাল্যজীবনের স্মৃতিও ঘুরে দেখেন।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=5COSiws3HvodyxBI” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>