আমেরিকার টেক্সাল প্রদেশের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গোৎসব (Durga Puja)। এবার এই পুজো ৪৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ঢাকের চেনা বাদ্যি, সাবেকি পোশাক, আত্মীয়-বন্ধুদের পুনর্মিলন এবং বাঙালি খাবারের আয়োজন-সব মিলিয়ে পুজোর আবহে সেজে উঠেছে স্থানীয় পুজোমণ্ডপগুলি।
আমেরিকার অন্যতম জনবহুল অঞ্চল ডালাস। দেশের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগে টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে তাঁর শেষ প্রকাশ্য ভাষণ দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই অঞ্চল এখন প্রবাসী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও অন্যতম কেন্দ্র। আনুমানিক ১৫ হাজার বাঙালি এই এলাকায় বসবাস করে। তাঁদের অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা, কর্পোরেট অর্থনীতি, ব্যাঙ্কিং, আবাসন, শিক্ষাক্ষেত্র, গবেষণা, ব্যবসা এবং আতিথেয়তা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
এ বছরের দুর্গোৎসবকে (Durga Puja) ঘিরে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ নৃত্য পরিবেশনা ‘টেলস ফ্রম দ্য টোজ-ফ্রম মুদ্রাজ টু মানোস’।‘ পাশাপাশি, এ বারের পুজোর মূল ভাবনা ‘পটচিত্রে দুর্গার আগমন’। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র শিল্পকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, পুজোর (Durga Puja) চিরাচরিত ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি এ বার কিছু নতুন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং প্রবেশমূল্যের কাঠামোয় পরিবর্তন।
হুগলি জেলার বাসিন্দা স্নেহাংশু দত্ত বলেন, ‘১৫ সদস্যের একটি নিবেদিত কমিটি এই বৃহৎ আয়োজন পরিচালনা করছে। পুজোর জন্য রয়েছে একটি স্থায়ী প্রতিমা, যা সংগঠনের ৪০তম বর্ষপূর্তি উদ্যাপনের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। উৎসবের বাঙালিয়ানা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদেরও উৎসাহ দিতে সংগঠনের তরফে স্থানীয় ঢাকিদের নিয়োগ করা হয়েছে। চার দিনের উৎসবে পুজোর আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য থাকবেন একজন পুরোহিত ও তাঁর সহকারী।‘
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলের একাধিক বাঙালি সংগঠন দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি নিয়েছে। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে বিভিন্ন জায়গায় পুজো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ইতিহাসের সাক্ষী জঙ্গলমহলের গ্রাম, লালজলে প্রথমবার দুর্গাপুজোর দায়িত্বে মহিলারা
এই অঞ্চলের অন্যতম বড় আয়োজনগুলির মধ্যে রয়েছে ‘আমরা বাঙালি ডিএফডব্লিউ’ (এবিডিএফডব্লিউ)-এর দুর্গাপুজো। ফ্রিসকোর ইন্ডিপেন্ডেন্স হাই স্কুলে এই পুজোর আয়োজন করা হবে। অন্য দিকে, ‘ডিএফডব্লিউ কলাকার্স’ ডালাসের মার থোমা ইভেন্ট সেন্টারে পঞ্চম দুর্গোৎসব পালন করবে। সেখানে পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
টেক্সাসের অবারেতে ‘দ্য ব্লিস’-এ পঞ্চম বর্ষের দুর্গাপুজো আয়োজন করছে ‘অঙ্কুর ডিএফডব্লিউ’। এই বিশেষ উপলক্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে ভারত থেকে সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী ও সোমলতা আচার্য চৌধুরী এবং রক ব্যান্ড ক্যাকটাসকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি।
দুর্গোৎসবের (Durga Puja) রেশ অবশ্য অক্টোবরের পরবর্তী সপ্তাহেও বজায় থাকবে। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ফার্মার্স ব্রাঞ্চের মার থোমা চার্চে বার্ষিক দুর্গাপুজোর আয়োজন করবে ‘রিদম কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’। ঐতিহ্যবাহী পুজোর রীতি ও প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই অঞ্চলের শরৎকালীন উৎসবের মরসুম।
এ ছাড়াও ডালাস অঞ্চলে দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে ‘অন্তরিক’, ‘বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার ডালাস’ এবং ‘প্রণাম ডিএফডব্লিউ’-এর মতো একাধিক সংগঠন। সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়েও ঢাকের বাদ্যি, পটচিত্রের ঐতিহ্য, বাঙালিয়ানা ধরে রাখছেন তাঁরা।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=xlwlI9NodYqAAQ0I” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>