• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

Fact Check: ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মতো ছোট ব্যাঙ্কগুলিকে নিয়ে নিচ্ছে SBI, PNB আর BOB– সত্যিই?

এসবিআই, পিএনবি ও ব্যাংক অফ বরোদা কি ছোট ব্যাংক অধিগ্রহণ করছে? সমাজমাধ্যমে ছড়ানো গেজেট নথি নিয়ে সত্যিটা জানাল পিআইবি ফ্যাক্ট চেক।

Fact Check: ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মতো ছোট ব্যাঙ্কগুলিকে নিয়ে নিচ্ছে SBI, PNB আর BOB– সত্যিই?

Are SBI, PNB, Baroda Bank Acquiring Indian Bank, BOM, BOI (Image: Generative AI)

সমাজমাধ্যমে ঘুরপাক খাওয়া একটি নথি ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে তুমুল আলোড়ন। দাবি করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক (Ministry of Finance) নাকি একটি সরকারি গেজেটে (Gazette) দেশের ন’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে তিনটি বড় ব্যাংকের অধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda), এই তিন বৃহৎ ব্যাংক নাকি ছোট ব্যাংকগুলিকে অধিগ্রহণ করে নিচ্ছে বলে নথিতে দাবি। আগুনের মতো এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই কেন্দ্রের তরফে এই দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) সরকারি ফ্যাক্ট চেক শাখা স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই ভাইরাল হওয়া নথি ভুয়ো।

ঠিক কী দাবি করা হয়েছিল

ভাইরাল হওয়া নথিটি দেখতে হুবহু সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মতো। তাতে বলা হয়েছিল, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক (Indian Bank), ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র (Bank of Maharashtra) এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Central Bank of India), এই তিন ব্যাঙ্ক এসবিআইয়ের সঙ্গে মিশে গিয়ে নতুন পরিচয় পাবে, এসবিআই গ্রুপ (SBI Group)। একইসঙ্গে দাবি করা হয়, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Union Bank of India), ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Bank of India) এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক (Punjab & Sind Bank) মিশে যাবে পিএনবির সঙ্গে। তৃতীয় দাবি ছিল, কানাড়া ব্যাঙ্ক (Canara Bank), ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক (Indian Overseas Bank) এবং ইউকো ব্যাঙ্ক (UCO Bank) চলে যাবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অধীনে। নথিতে এমনও লেখা ছিল, সংযুক্ত হওয়া ব্যাঙ্কগুলির যাবতীয় সম্পত্তি, দায়, কর্মী, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট এবং চুক্তি সবই নতুন করে অধিগ্রহণকারী ব্যাঙ্কের নামে চলে যাবে।

পিআইবি-র দাবি

ভাইরাল নথি নজরে আসতেই দ্রুত ময়দানে নামে পিআইবির ফ্যাক্ট চেক (PIB Fact Check) শাখা। তাদের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে ছড়ানো নথিটি সরকারি অর্থমন্ত্রকের তরফে জারি করা হয়নি। জনসাধারণের এমন ভুয়ো দাবি বিশ্বাস না করার আরজি জানানো হয়েছে। পিআইবির পরামর্শ, এমন জরুরি বিষয়ে কোনও তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। আগে বিশ্বাসযোগ্য এবং সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। পাশপাশি ভুয়ো খবর আটকাতে সন্দেহজনক কোনও তথ্য নজরে এলে তা সরাসরি পিআইবি ফ্যাক্ট চেকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা ইমেলে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমন ভুয়ো নথি সমাজমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে এসবিআই, পিএনবি এবং কানাড়া ব্যাঙ্ক মিশে যাওয়ার একটি ভুয়ো ছবি একইভাবে ভাইরাল হয়েছিল, তখনও পিআইবি হস্তক্ষেপ করে সেটিকে ভুয়ো বলে জানিয়েছিল।

একেবারেই ভিত্তিহীন?

পুরোপুরি তা বলা যায় না। সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া নথিটি ভুয়ো হলেও, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ (PSU Bank Merger) নিয়ে সরকারি স্তরে আলোচনা সত্যিই চলছে বলে একাধিক সূত্রের খবর। এই গোটা প্রক্রিয়াটির লক্ষ্য হল, দেশে হাতে গোনা কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের বড় ব্যাঙ্ক তৈরি করা, যা বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারবে। বর্তমানে এই তালিকায় শুধু এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank) এবং এসবিআইয়ের নাম রয়েছে। ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক, এই ছ’টি ব্যাঙ্ক এখনও একক সত্তা হিসেবে কাজ করছে এবং পরবর্তী দফার সংযুক্তিকরণে এদেরই নাম ঘুরছে বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি।

এসবিআইয়ের চেয়ারম্যান চাল্লা শ্রীনিবাসুলু শেট্টি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আরও একদফা সংযুক্তিকরণ বাস্তবসম্মত এবং লাভজনক হতে পারে। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, এখনও বাজারে কয়েকটি বেশ ছোট ব্যাঙ্ক থেকে গিয়েছে। তবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ বা একত্রীকরণ সংক্রান্ত নতুন কোনও প্রস্তাব আপাতত সরকারের বিবেচনাধীন নেই।

আগের অভিজ্ঞতা

২০১৭ সালে ব্যাংক সংযুক্তিকরণের ভাবনার সূত্রপাত। সেই বছর এসবিআইয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ বিকানের অ্যান্ড জয়পুর, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ হায়দরাবাদ, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাতিয়ালা, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ মহীশূর, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ত্রিবাঙ্কুর এবং ভারতীয় মহিলা ব্যাঙ্ক। ২০১৯ সালে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সঙ্গে মিশে যায় বিজয়া ব্যাঙ্ক এবং দেনা ব্যাঙ্ক। আর ২০২০ সালে একসঙ্গে একাধিক বড় সংযুক্তিকরণ ঘটে। পিএনবির সঙ্গে মেশে ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। কানাড়া ব্যাঙ্কের সঙ্গে মেশে সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক। ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মেশে অন্ধ্র ব্যাঙ্ক এবং কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক। আর ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সঙ্গে মেশে এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক। এই ধাপে ধাপে সংযুক্তিকরণের ফলেই ২০১৭ সালে ২৭ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা নেমে হয় ১২।

সতর্কবার্তা

কোনও ব্যাংক সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত নথি বা বিজ্ঞপ্তি সমাজমাধ্যমে চোখে পড়লে তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করাই শ্রেয়। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত সবসময় অর্থমন্ত্রকের সরকারি ওয়েবসাইট, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলির নিজস্ব বিবৃতি থেকে নিশ্চিত হওয়া দরকার।