শোভনলাল চক্রবর্তী
চলতি বছরের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো বা এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী টানা চতুর্থবার দেশের মধ্যে নিরাপদতম শহরের তকমা পেয়েছে কলকাতা। অপহরণের খতিয়ানে রাজ্যের তথ্য অস্বস্তি বাড়ালেও এখানেও স্বস্তি দিচ্ছে শহর কলকাতা। অপহরণ সংক্রান্ত অপরাধ রাজ্যে বাড়লেও তার প্রভাব কলকাতায় পড়েনি। বরং এই অপরাধ কলকাতায় কমেছে। ২০ লক্ষের বেশি বাসিন্দা আছে দেশের এমন ১৯টি শহরকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এনসিআরবি-র সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কলকাতায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ২৮১টি। ২০২২-এ কলকাতায় এই অপরাধের সংখ্যা ছিল ৪৫২। ২০২১ সালে ছিল ৩৪৬। অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে কলকাতায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও তা এক বছরেই কমানো গিয়েছে। তবে গোটা দেশে শহরগুলির মধ্যে অপহরণে শীর্ষে রয়েছে দিল্লি। ২০২২-এর তুলনায় ২০২৩ সালে রাজধানীতে অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২২-এ দিল্লিতে ৫৫৮৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৩ এ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৮১। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুম্বই। এখানে নথিভুক্ত এই অপরাধের সংখ্যা ১৭৯৮। পাশাপাশি দেশের শহরগুলির মধ্যে সবথেকে কম অপহরণের অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে কেরলের কোচি এবং তামিলনাড়ুর কোয়েমবাটুর। দক্ষিণের দু’টি শহরে নথিভুক্ত এই অপরাধের সংখ্যা ১৬।রাজ্যে বেড়েছে অপহরণের সংখ্যা। নথিভুক্ত এই অপরাধের ক্ষেত্রে মহিলাদের অপহরণ পুরুষদের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ। এবছরে প্রকাশিত ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র ২০২৩ সালের রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩-এ রাজ্যে শুধু মাত্র মহিলাদের ওপর এই অপরাধের সংখ্যা ৬,৯২০টি। পুরুষের সংখ্যা ১৫৯০।
Advertisement
কলকাতা শহরে ২০২২ সালের তুলনায় এই অপরাধ কমলেও রাজ্যের ক্ষেত্রে তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
‘ক্রাইম ইন ইন্ডিয়া’-র ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী এক বছরে সারা দেশে ১,০৬,৫৮৪ টি অপহরণের অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত এই অপরাধের সংখ্যা ৮,২৩৩টি। ২০২২ সালে রাজ্য এই অপরাধের সংখ্যা ছিল ৮০৮৮টি। অর্থাৎ ২০২২-এর তুলনায় ২০২৩ সালে রাজ্যে অপহরণ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪৫টি। এই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অপহরণ সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এক বছরে এই রাজ্যে ১৬,৬৬৩টি অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। যা পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণ। উত্তরপ্রদেশের পরেই এই অপরাধে রয়েছে বিহার এবং মহারাষ্ট্রের নাম। এই দুই রাজ্যে যথাক্রমে ১৪,৩৭১ এবং ১৩,১০৬টি অপরাধ হয়েছে। এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যগুলির মধ্যে অপহরণ সংক্রান্ত সবথেকে কম অপরাধ হয়েছে হয়েছে মিজোরামে। মাত্র পাঁচটি। তবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি ধরলে দেখা যাবে মিজ়োরামের থেকে এগিয়ে লাক্ষাদ্বীপ।
Advertisement
কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে ২০২২ সালের মতো ২০২৩ সালেও একটিও এই ধরনের অপরাধ নথিভুক্ত হয়নি।প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে দেশে একটি করে অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে ২০২৩ সালে। বৃদ্ধি পেয়েছে মহিলা এবং শিশুদের উপরে ঘটা অপরাধের সংখ্যা। এনসিআরবি – র ২০২৩ সালে দেশে নথিভুক্ত অপরাধের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মহিলাদের উপরে হওয়া অপরাধের মধ্যে প্রায় ২৯.৮ শতাংশই হল স্বামী অথবা নিকটাত্মীয়ের হাতে নির্যাতনের ঘটনা। আর শিশুদের উপরে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে (পকসো) দায়ের হওয়া মামলায় ৯৬% ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নির্যাতিতের পরিচিত ছিল। এ ছাড়াও, অন্যান্য দুষ্কর্মের থেকে দ্রুত গতিতে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি এবং শহরাঞ্চলে অপরাধমূলক কার্যকলাপ বাড়ার মতো কিছু প্রবণতাও উঠে এসেছে।
রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে দেশে মহিলাদের উপরে মোট ৪,৪৮,২১১টি অপরাধের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ২০২২ সালের নিরিখে বৃদ্ধি ০.৭%। প্রতি এক লক্ষ মহিলা পিছু অপরাধের মাত্রা ৬৬.২। দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে ৭৭.৬% ক্ষেত্রে পুলিশ কোর্টে চার্জশিট পেশ করেছে। আর উদ্বেগজনক বিষয়টি হল, এই সংক্রান্ত ৯০.৮ শতাংশ মামলাই বছর শেষে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন ছিল। পণ প্রতিরোধ আইনে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৮৩,৩২৭টি। যার মধ্যে ৬৯,৪৩৪টি পূর্ববর্তী বছরগুলির থেকে গড়াতে গড়াতে এসেছে।মহিলাদের উপরে হওয়া নথিভুক্ত অপরাধের মধ্যে প্রায় ২৯.৮ শতাংশই হল স্বামী বা আত্মীয়দের থেকে আসা নির্যাতন (ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় মামলা)। তার পরেই অপহরণ (১৯.৮%), যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য নিয়ে নিগ্রহ (১৮.৭%)। মহিলাদের উপরে নির্যাতনের অভিযোগের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ। আর প্রতি এক লক্ষ মহিলার নিরিখে অপরাধের মাত্রায় শীর্ষে তেলঙ্গানা। ২০২৩ সালে দেশ জুড়ে পণের বলি হয়েছেন ৬১০০ জনের বেশি মহিলা। পণের দাবিতে নির্যাতনের মামলা এক বছরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, গোয়া, অরুণাচলপ্রদেশ, লাদাখ এবং সিকিম-সহ দেশের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০২৩-এ পণের দাবি সংক্রান্ত কোনও মামলা হয়নি। ওই বছর অ্যাসিড হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে মোট ২০৭টি। তার মধ্যে ৫৭টিই পশ্চিমবঙ্গের।
শিশুদের উপরে অপরাধ ২০২২ সালের তুলনায় ৯.২% বৃদ্ধি পেয়েছে ২০২৩ সালে। ২০২৩-এ এই সংক্রান্ত ১,৭৭,৩৩৫টি অভিযোগ হয়েছিল। যার মধ্যে প্রায় ৪৫% অপহরণের। আর ৩৮.২% পকসো আইনে হওয়া শিশুদের যৌন নির্যাতনের মামলা। শিশুদের উপরে হওয়া প্রতি পাঁচটি অপরাধের মধ্যে কমপক্ষে দু’টি ছিল যৌন নির্যাতনের। শতকরা পাঁচটি করে অপরাধ এক বছরে বেড়েছে এ ক্ষেত্রে। পকসোয় হওয়া মামলার মধ্যে ৯৬% ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নির্যাতিতের পরিচিত ছিল। নির্যাতনের শিকার বেশি হয়েছে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সিরা। তার পরেই রয়েছে ১২-১৬ বছর বয়সিরা। শিশুদের উপরে ঘটা অপরাধের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত অপরাধের মাত্রার নিরিখে শীর্ষে আসাম। শিশুদের উপরে হওয়া অপরাধের মামলায় ৩২.২% ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত বছর শেষে বাকি ছিল। ৬৪.৩% ক্ষেত্রে পুলিশ কোর্টে চার্জশিট দিতে পেরেছিল। যার মধ্যেও লক্ষ করা গিয়েছে বিস্তর ফারাক। এ ক্ষেত্রে তামিলনাড়ু অনেকটা এগিয়ে এবং দিল্লি পিছিয়ে আছে।দেশে ২০২২-এর তুলনায় ২০২৩-এ বাল্যবিবাহ বেড়েছে প্রায় ছ’গুণ। মোট বাল্যবিবাহের ঘটনার প্রায় ৯০% হয়েছে আসামে (৫২৬৭টি)। তার পরে রয়েছে তামিলনাড়ু (১৭৪টি), কর্নাটক (১৪৫টি) এবং পশ্চিমবঙ্গ (১১৮টি)। ছত্তিশগড়, নাগাল্যান্ড, লাদাখ এবং লাক্ষাদ্বীপের মতো কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাল্যবিবাহের কোনও অভিযোগ নথিভুক্ত হয়নি।
রিপোর্টে আরো দেখা গিয়েছে, ২০২৩ সালে দেশে মোট অপরাধের মামলা হয়েছে ৬২.৪ লক্ষ। আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার ৭.২%। প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় অপরাধের মাত্রা ছিল ৪৪৮.৩। ২০২২ সালে যে মাত্রা ছিল ৪২২.২। অপরাধের ধরনে পরিবর্তনও লক্ষ করা যাচ্ছে ওই রিপোর্টে। সাইবার অপরাধ ও শহরাঞ্চলে অপরাধমূলক ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩-এ দেশে সাইবার অপরাধ বেড়েছে ৩১.২%। মেট্রোপলিটন শহরগুলিতে অপরাধের হার বেড়েছে ১০.৬%। সব থেকে বেশি মামলা হয়েছে দিল্লিতে। তফসিলি জাতির উপরে ঘটা অপরাধ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তফসিলি জনজাতির উপরে অপরাধমূলক ঘটনা অনেক বেড়েছে (২৮.৮%)। যার অন্যতম কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে মণিপুরের হিংসার মতো ঘটনা।নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচারের হ্যালোজেনের পাশেই বয়ে যায় অন্ধকারের খরস্রোতা। সমীক্ষা জানিয়েছে, বছরে ১০ লক্ষেরও বেশি নারী ও শিশু পাচার হয় ভারত থেকে। আর, এই অপরাধে শীর্ষস্থানে পশ্চিমবঙ্গ। বড় শহরগুলি যেমন পাচারের কেন্দ্র, তেমনই দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদের মতো জেলা থেকে নিম্নবিত্ত শ্রেণির নারী ও শিশুদের মোটা বেতনের লোভ দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে— বহু বার উঠে আসা এই উদ্বেগের প্রমাণ মিলল আবারও। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পাচার চক্রের সক্রিয়তার খবর আগেই ছিল। এ বার বারাসত জেলা পুলিশ এমন চক্রের হদিস পেল, যারা আয়া সেন্টারে কাজ দেওয়ার ছলনায় অল্পবয়সি মেয়েদের এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও স্পায়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করছিল। এই পরিসংখ্যান, এই গ্রেফতারি হিমশৈলের চূড়া। বহু ‘নিখোঁজ’ মেয়েদেরই খবর প্রকাশ্যে আসে না। লোকলজ্জার আতঙ্কে পরিবার তথ্য লুকোয়, আইনে অজ্ঞতা ও ভয়ে মেয়েরা চুপ থাকে। কারণ নারীঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দোষীকে ছাড় দিয়ে ভুক্তভোগীকে কোণঠাসা করাই দেশের মজ্জাগত।
ফলে, শাস্তি অধরা থাকে, প্রশাসনের সঙ্গে প্রতারকের যোগসাজশের সন্দেহ বাড়ে এবং প্রখর এই নৈঃশব্দ্যের সুযোগে দুর্বল অর্থনীতির দেশে বিপুল অসাংগঠনিক ক্ষেত্রে অপরাধ বাড়ে নিরুপদ্রবে। নকল বিয়ে বা প্রেমের অভিনয় তো রয়েইছে, সমান ভয়ঙ্কর ভুয়ো নিয়োগ সংস্থা, যারা অনলাইনে বা ঘরের আশপাশে বিজ্ঞাপন বা দালালের মাধ্যমে ফাঁদ পাতে। অন্য দিকে, সমাজ কেবলই নানা ভাবে ঘরে-বাইরে মেয়েদের বঞ্চিত করে, নির্যাতন, হিংসা সীমা ছাড়ায়। মুক্তি স্বনির্ভরতায়। কিন্তু শিক্ষার আলো থেকে বহু দূরে যাঁরা, তাঁরা বেকারত্বের বাজারে কাজ জোগাড় করতে হিমশিম খান। তখনই দুর্বৃত্তরা নিয়োগকারী সেজে বিউটি পার্লারে, ফ্যাশনশিল্প বা চলচ্চিত্রে, কারখানায়, গার্হস্থ শ্রমে ভাল উপার্জন ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখায় ও মেয়েদের বাড়ির আশ্রয় থেকে বার করে দেহব্যবসা ও নানা বেআইনি শ্রমে যুক্ত করে। শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের সঙ্গে খোয়া যায় মৌলিক মানবাধিকারগুলিও। গহ্বর থেকে উদ্ধার করা গেলেও, দেখা গিয়েছে উপযুক্ত পুনর্বাসনের অভাবে তাঁরা আর পরিবার ও সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে পারেন না। আইনি সহায়তা সম্পর্কে জানা না থাকায় মেলে না দ্রুত সুবিচারও, ফের চক্রের সজাগ হওয়ার ও অত্যাচারের অন্ধকূপে পুনর্নিক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পরিস্থিতির ক্রম অবনতির জন্য দায়ী কোভিড-পরবর্তী সমাজমাধ্যমের বাড়বৃদ্ধি।
সামাজিক নীরবতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাকে ভাঙতে হবে। উপার্জনের বিভিন্ন পথ, শ্রম আইন সম্পর্কে সচেতনতা, নিয়োগকারী সংস্থার কোন নথি যাচাই করা জরুরি এবং সন্দেহের চিহ্ন কোনগুলি— তুমুল প্রচার চালাতে হবে পাড়ায়, স্কুল-কলেজে। যাতে নিজে সুরক্ষিত থাকার সঙ্গে অন্য কেউ, বিশেষত নাবালিকারা বিপদে পড়ছে কি না— সতর্ক থাকা যায়। ভুক্তভোগীকে জীবন পুনর্গঠনে সর্বপ্রকার সহায়তা করতে হবে। কিছু ধরপাকড়ই যথেষ্ট নয়, কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করার সঙ্গে নারীকে নিরাপত্তা দিতে হবে প্রশাসনকে, সমাজকে। সুস্থ সমাজে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্য মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিধান, তার শোষণ ও ত্রাসের উৎস হয়ে ওঠার এই প্রবণতা মারাত্মক, কলঙ্কস্বরূপ।
Advertisement



