গৌড়ীয় মঠের প্রতিষ্ঠাতা ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্য শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ-এর ১৫২তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে উত্তর কলকাতার বাগবাজারে এক অভিনব প্রদীপ যাত্রা ও ঝাড়প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভক্তিমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হল।
বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিকেল থেকেই ভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করে মঠ প্রাঙ্গনে। সুনিয়ন্ত্রিত শোভাযাত্রায় ১৫২ জন যুবক হাতে প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ নিয়ে মঠ চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করেন। প্রদীপের সারি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আশপাশের এলাকা পরিক্রমা করে। স্থানীয় মানুষরাও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে এই অনন্য দৃশ্য উপভোগ করেন।
Advertisement
শোভাযাত্রা পৌঁছায় বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব প্রাঙ্গণ-এ। সেখানে সমবেতভাবে একটি সুবিশাল ঝাড়প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শতাধিক প্রদীপের আলোয় মুহূর্তে আলোকিত হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ।
Advertisement
নামসংকীর্তন, ভজন ও ধর্মীয় স্তোত্রপাঠে পরিবেশ হয়ে ওঠে গভীর ভক্তিময়। প্রবীণ ভক্তদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন তরুণ প্রজন্মও। আয়োজকদের মতে, ‘প্রদীপের আলো অন্ধকার দূর করার প্রতীক। প্রভুপাদের আদর্শ ও শুদ্ধ ভক্তির পথ আজও সমাজকে আলোকিত করতে পারে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি গৌড়ীয় মঠের নতুন প্রবেশদ্বারের উদ্বোধন করেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আধ্যাত্মিক চর্চা সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতার বার্তা বহন করে। এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।’
গৌড়ীয় মিশনের সভাপতি ও আচার্য ভক্তিসুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ জানান, ‘এই প্রদীপ যাত্রা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রভুপাদের আদর্শ, ভক্তি ও শুদ্ধ সাধনার বার্তাকে নতুনভাবে স্মরণ করার প্রয়াস।’
উল্লেখ্য, বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব প্রাঙ্গণে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ১২তম শ্রীচৈতন্য জন্মোৎসব ও মেলা। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তারই অঙ্গ হিসেবে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদের ১৫২তম আবির্ভাব তিথি নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহাসাড়ম্বরে পালিত হল।
Advertisement



