নতুন অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই শেয়ার বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ১ এপ্রিল থেকে ফিউচার ও অপশন লেনদেনে করের হার বাড়ানো হচ্ছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তা শুরু হয়েছে ব্রোকার, ট্রেডার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই পরিবর্তনের ঘোষণা করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিউচার লেনদেনে করের হার ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপশন লেনদেনেও করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নিয়মে অপশন প্রিমিয়াম এবং এক্সারসাইজের উপর করের হার বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে তুলনায় বেশি। ফলে প্রতিটি লেনদেনেই খরচ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে যারা ঘন ঘন কেনাবেচা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রভাব বেশি পড়বে।
Advertisement
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর বৃদ্ধির ফলে স্বল্পমেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে যারা ডেরিভেটিভ বা স্বল্পমেয়াদি লেনদেনে বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য খরচ বাড়বে। ইতিমধ্যেই চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশি বিনিয়োগ বাজার থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, যা সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Advertisement
তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের উপর এই পরিবর্তনের প্রভাব খুব বেশি পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ তাঁদের সিদ্ধান্ত মূলত সংস্থার আয়, মুদ্রার স্থিতি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার উপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কর বৃদ্ধির ফলে সাময়িকভাবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে ছোট বিনিয়োগকারী এবং দ্রুত লেনদেনকারী ট্রেডারদের মধ্যে প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলেই অনুমান। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের কর আদায় বাড়বে। যদিও কিছু বিনিয়োগ অন্য এশিয়ার বাজারে সরে যেতে পারে, তবুও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতি ও নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বড় কোনও প্রভাব পড়বে না।
বাজারে নিযুক্তদের মতে, প্রথমদিকে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজারের গতি খুব একটা বদলাবে না। বরং স্বচ্ছতা ও নিয়মের দিক থেকে বাজার আরও শক্তিশালী হবে।
Advertisement



