• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

অনলাইনে টাকা লেনদেনে প্রবল চাপ: Paytm বন্ধ করার নির্দেশ হাইকোর্টের, বিরাট দুর্ভোগের মুখে জনতা?

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্ক বন্ধের নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ওয়ালেট, ইউপিআই আর কিউআর কোড লেনদেনের কী হবে, জেনে নিন পুরো তথ্য।

অনলাইনে টাকা লেনদেনে প্রবল চাপ: Paytm বন্ধ করার নির্দেশ হাইকোর্টের, বিরাট দুর্ভোগের মুখে জনতা?

Paytm Payment Bank Ban (Gemini)

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্ক (Paytm Payments Bank) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত। দিল্লি হাইকোর্ট ব্যাঙ্কটি গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার শেষ অধ্যায় শুরু হল। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে সাধারণ গ্রাহকের ওয়ালেট আর ইউপিআই (UPI) পরিষেবার কী হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশ

আরবিআই (RBI) জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্ট দু’টি পৃথক আদেশে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। প্রথম আদেশ এসেছিল ৮ জুলাই। দ্বিতীয়টি ২২ জুলাই। ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৯ এবং কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০১৩-র ধারা মেনে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত একজন লিকুইডেটরও (Liquidator) নিয়োগ করেছে। তাঁর নাম গিরিকুমার এম নায়ার। তিনি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক।

কেন এই সিদ্ধান্ত

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরে অভিযোগ জমছিল। কেওয়াইসি (KYC) সংক্রান্ত গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ ছিল। গ্রাহক-তথ্য যাচাইয়ে বড়সড় ত্রুটি মিলেছিল। ২০২২ সালেই নতুন গ্রাহক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল আরবিআই। ২০২৪ সালে নতুন টাকা জমা নেওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিল ২০২৬-এ আরবিআই ব্যাংকটির লাইসেন্সই বাতিল করে দেয়। আরবিআইয়ের বক্তব্য ছিল, এই ব্যাংক গ্রাহকদের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করছিল।

অ্যাপ, ওয়ালেট আর ইউপিআই

বড় বিপদের মধ্যেও খানিকটা স্বস্তির খবরও আছে। পেটিএম অ্যাপ বন্ধ হচ্ছে না। কারণ পেটিএমের মূল কোম্পানি ওয়ান নাইনটি সেভেন কমিউনিকেশনস (One97 Communications) আগেই ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো সরিয়ে নিয়েছিল অন্য ব্যাঙ্কে। এখন পেটিএম অ্যাপ চলছে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক আর এসবিআইয়ের মতো পার্টনার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। এই মডেলের নাম টিপ্যাপ (TPAP) বা থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন প্রোভাইডার। ফলে ইউপিআই লেনদেন চলবে আগের মতোই। দোকানের কিউআর কোড (QR Code), সাউন্ডবক্স (Soundbox), কার্ড মেশিন, সবই চালু থাকবে। পেটিএম গোল্ডও (Paytm Gold) বন্ধ হচ্ছে না।

যাঁদের টাকা আটকে আছে

যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা জমা আছে, তাঁদের জন্য আরবিআই আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাঙ্কের কাছে যথেষ্ট সম্পদ আছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে। তবে কবে থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রাহকদের লিকুইডেটরের দপ্তর কিংবা আরবিআইয়ের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখতে বলা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও প্রাসঙ্গিক

পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য ছোট দোকানদার এখনও পেটিএমের কিউআর কোড ব্যবহার করেন। কলকাতার অলিগলি থেকে জেলার হাটবাজার, সর্বত্র এই ছবি চোখে পড়ে। খুশির খবর হল, সেই লেনদেন বন্ধ হচ্ছে না। তবে যাঁদের এখনও পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেটে পুরনো টাকা জমা আছে, তাঁদের সতর্ক থাকা দরকার। রাজ্যের বহু প্রান্তিক গ্রাহক একমাত্র এই ব্যাঙ্কটির উপরেই নির্ভরশীল ছিলেন বলে তথ্য বলছে। তাঁদের উচিত লিকুইডেশন সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে নজর রাখা। টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হলে দ্রুত আবেদন জানানো জরুরি।