কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকার ও জীবন বিমা নিগম (এলআইসি) নিজেদের হাতে থাকা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের সিংহভাগ শেয়ার বিক্রি করবে। তবে বিলগ্নীকরণের পরেও দুই পক্ষের হাতে মিলিয়ে ৩৪ শতাংশ শেয়ার থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই মালিকানা হস্তান্তরের ফলে ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের পরিষেবায় সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে না।
আইডিবিআই ব্যাঙ্কে বর্তমানে এলআইসির হাতে ৪৯.২৪ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ৪৫.৪৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে কেন্দ্র তাদের ৩০.৪৮ শতাংশ এবং এলআইসি ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করবে। ফলে লেনদেন সম্পন্ন হলে কেন্দ্রের হাতে ১৫ শতাংশ এবং এলআইসির হাতে ১৯ শতাংশ শেয়ার থাকবে। অর্থাৎ, দুই পক্ষের মিলিত অংশীদারিত্ব দাঁড়াবে ৩৪ শতাংশে।
প্রতি শেয়ার ৮১ টাকা দর ধরে এই লেনদেনের মোট মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫২,৮৭৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যায়ন, আর্থিক নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়ার পর ফেয়ারফ্যাক্সকে কৌশলগত ক্রেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্র। তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেও মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে এখনও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে নতুন পুঁজি আসার পাশাপাশি পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাঙ্কটির প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, পরিষেবা ও ব্যবসার প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে নতুন মালিকের পরিকল্পনা এবং পরবর্তী সময়ে তা কার্যকর করার উপর।
কেন্দ্রের বক্তব্য, ব্যাঙ্কের পুনর্গঠনের পরেও সরকার ও এলআইসি উল্লেখযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে। অন্য দিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার ও পরিচালন নিয়ন্ত্রণ পেলে ফেয়ারফ্যাক্স ব্যাঙ্কের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে। চুক্তিটি সম্পূর্ণ হলে ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগের ঘটনা হিসেবে তা বিবেচিত হবে।




