• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 5 August, 2026

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফেরায় আশার আলো বাজারে, উন্নতি মাইক্রো লেবেলেও

ব্যাপক উত্থান-পতনের সাক্ষী নিয়ে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক বন্ধ হয়েছে কিছুটা উপরেই। গত সপ্তাহে আগত জিএসটি (Goods and Service Tax)-এর পরিসংখ্যানে বেশ আশাবাদী ভারতের অর্থনীতি। জুলাই মাসে জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ২১১০০০ কোটি টাকার মতো, যা ভারতীয় অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফেরায় আশার আলো বাজারে, উন্নতি মাইক্রো লেবেলেও

Photo: Magnific

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক KOSPI থেকেছে সাংঘাতিক উত্থান পতনের সাক্ষী হিসেবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলির শেয়ারের বিক্রি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী লিভারেজ ইটিএফ বিক্রি জেরে জেরবার দক্ষিণ কোরিয়া সূচক এবং আগামী দিনে এই উত্থান-পতন যে থাকবেই সে ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বিনিয়োগকারী বিশেষত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার মূল ধারার তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলির উপর ভরসা ফিরে পেয়েছে। ফলে গত সপ্তাহে আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সূচক প্রায় ৭.৬২ শতাংশ উপরে বন্ধ হয়েছে।

এক মাসে প্রায় ১৬.৭১ শতাংশ উপরে বন্ধ হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির সূচক। আগামী দিনে এদের আর্থিক ফলাফল ভালো হবে সেই আশায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিগুলির ভ্যালুয়েশন লাগাম ছাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের আপাতত লক্ষ্য চিরাচরিত তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির শেয়ারের উপর। তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির সূচক যেমন গত সপ্তাহে ভালো পারফরমেন্স দিয়েছে, তেমনি মিডিয়া, অটো, ফার্মা সেক্টরের সূচকের স্বপ্নের দৌড় উপভোগ করেছেন বিনিয়োগকারিরা। অবশ্য গত সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে সমস্ত সেক্টরের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। INDIAVIX এক ধাক্কায় তিন শতাংশ নিচে বন্ধ হয়েছে, গত সপ্তাহে এর অবস্থান ছিল ১১.৭৬ এর কাছাকাছি। সর্বোপরি গত সপ্তাহে নিফটি সূচক প্রায় দুই শতাংশ উপরে বন্ধ হয়ে ২৪৪০০-র উপরে অবস্থান করছে।

টেকনিক্যাল এনালিস্টদের মতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা বাজারের উপরে যাওয়ার। মিড এবং স্মল ক্যাপের সূচক ও গত সপ্তাহে বন্ধ হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ ওপরে। বাজারের এই সমষ্টিগত উন্নতিতে খুশি বিনিয়োগকারী থেকে বিশেষজ্ঞরাও। এই কোয়াটারের আর্থিক ফলাফল এখনও পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের ততটা নিরাশ করেনি এবং সর্বোপরি ভবিষ্যতের জন্য দিয়েছে প্রত্যাশা পূরণের আশাও। অবশ্য এতকিছুর মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন ভু-রাজনৈতিক ঝুঁকির দিকে। বাজারের এই উন্নতি যে কোনও সময়েই থমকে যেতে পারে ইরান এবং আমেরিকা থেকে আশা কোনও খবরের ওপর।

সাপ্তাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে গত সপ্তাহে মিডিয়া, তথ্যপ্রযুক্তি, অটো, ফার্মা এবং কনসাম্পশন সেক্টরের পারফরম্যান্স ভালো হলেও সিপিএসই, এনার্জি সেক্টরের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা ব্যাক ফুটে। তবে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে ভয়ের বাতাবরণ ছিল তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বিনিয়োগকারীরা। ভারতের তথ্য প্রযুক্তি শিল্প আবার প্রমাণ করল তাদের বুনিয়াদ শক্ত জমির উপর। ২০০০ সালের পর যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ফিরে এসেছিল ঠিক সেভাবেই আবার তথ্য প্রযুক্তির এই কামব্যাক। সেই সঙ্গে এই কোয়ার্টারের রেজাল্ট ও তাদের প্রত্যাবর্তনের সহযোগী হয়েছে। সমস্ত সপ্তাহ জুড়ে নিফটির প্রায় ২.৬৮ শতাংশ উত্থান এবং সেইসঙ্গে মিড ও স্মল ক্যাপের ভালো পারফরম্যান্স কেবল আর্থিক ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই হয়নি। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতের শেয়ার বাজার সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির বদল।

গত সপ্তাহ জুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫৯০০ কোটি টাকা শেয়ার কিনেছেন ভারতের শেয়ার বাজার থেকে। আর আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারিরাও বিরত থাকেননি, তারাও গত সপ্তাহে প্রায় ৫৩০০ কোটি টাকা শেয়ার কিনেছেন আমাদের শেয়ার বাজার থেকে। এই দুইয়ের সহযোগিতায় নিএফটি গত সপ্তাহে বন্ধ হয়েছে ২৪ হাজার ৩০০-র উপর। গ্লোবাল মার্কেটের দিক থেকে বলা যায়, আমেরিকা এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের সুদের হার অপরিবর্তনীয় রেখেছে। এই অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের বৃদ্ধির মধ্যেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সূচক তাদের সর্বোচ্চ উচ্চতাকে ছুঁয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি একটু বিরাম নিয়ে গত সপ্তাহের শেষে বন্ধ হয়েছে ব্যারেল কিছু ৯০ ডলারের আশেপাশে।

ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে নতুন করে আশ্বাসবাণী অপরিশোধিত তেলের দামকে কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ার মধ্যে জাপানের বাজার গত সপ্তাহে কিছুটা নিচে বন্ধ হলেও হংকংয়ের বাজার ছিল বেশ কিছুটা উপরে। ব্যাপক উত্থান-পতনের সাক্ষী নিয়ে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক বন্ধ হয়েছে কিছুটা উপরেই। গত সপ্তাহে আগত জিএসটি (Goods and Service Tax)-এর পরিসংখ্যানে বেশ আশাবাদী ভারতের অর্থনীতি। জুলাই মাসে জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ২১১০০০ কোটি টাকার মতো, যা ভারতীয় অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তির বহিঃপ্রকাশ। সোনা এবং রুপো এই দুই মূল্যবান ধাতু গত সপ্তাহে কিছুটা নিচে বন্ধ হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতের শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার কেনার জেরে টাকার দাম বেড়েছে বেশ কিছুটা। গত সপ্তাহের শেষে এক ডলার কিছু টাকার দাম ৯৫.৩৮ এসে পৌঁছেছে।

যুদ্ধ থামলে এবং হরমুজ প্রণালী আবার সাবলীল হয়ে গেলে বাজার দীর্ঘকালে উপরের দিকে যাবে বলেই ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞের। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন লোন নিয়ে বিনিয়োগ করার উপর। সম্প্রতি একটি তথ্যে দেখা গি​য়েছে, ভারতের শেয়ারবাজারে লোন নিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে, যা বাজার তথা বিনিয়োগকারীদের কাছে মোটেই ভালো বার্তা বহন করে আনবে না। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার ঘটনা মাথায় রাখলে ব্যাপারটা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিনিয়োগ হবে ছোট-ছোট করে, ধারাবাহিকভাবে অবশ্যই নিজের টাকায়, ধার করে নয়।