• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 12 October, 2026

বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা, কারা পাবেন পেনশন? ইপিএসের নিয়ম স্পষ্ট করল ইপিএফও

বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসার ক্ষেত্রে মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার

বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা, কারা পাবেন পেনশন? ইপিএসের নিয়ম স্পষ্ট করল ইপিএফও

প্রতীকী চিত্র

বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসার ক্ষেত্রে মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্তের পর এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম বা ইপিএসের যোগ্যতার নিয়ম স্পষ্ট করল এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন (ইপিএফও)। বেতনসীমা বাড়লেও প্রত্যেক কর্মী যে স্বয়ংক্রিয় ভাবে পেনশনের সুবিধা পাবেন, তা নয়। কর্মীর মাসিক বেতন, ইপিএসের পূর্ববর্তী সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়মের উপর নির্ভর করবে পেনশনের যোগ্যতা।

বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইপিএফও। সংস্থাটি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, সংশোধিত বেতনসীমার মধ্যে থাকা কর্মীদের পেনশন প্রকল্পের সদস্যপদ নির্ধারণে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। তাই বেতন ২৫,০০০ টাকা বা তার কম হলেই প্রত্যেকে ইপিএসের সুবিধা পাবেন, এমন ধারণা ঠিক নয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাধ্যতামূলক ইপিএফের আওতায় আসার ক্ষেত্রে মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক কর্মী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন। সংশোধিত সীমার আওতায় যোগ্য কর্মীরা তিনটি প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন— এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ), এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম (ইপিএস) এবং এমপ্লয়িজ় ডিপোজ়িট লিঙ্কড ইনসিয়োর‌্যান্স (ইডিএলআই)।

 

 

 

ইপিএফের মাধ্যমে কর্মী ও নিয়োগকর্তার অবদানে অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে ওঠে। ইপিএস যোগ্য সদস্যদের পেনশনের সুবিধা দেয়। অন্য দিকে, ইডিএলআই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্মীদের জীবনবিমার সুরক্ষা দেওয়া হয়।

ইপিএফওর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংশোধিত বেতনসীমার মধ্যে থাকা যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে ইপিএসের সদস্যপদ বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে যাঁদের মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকার বেশি এবং যাঁরা আগে ইপিএসের সদস্য ছিলেন না, তাঁরা নতুন করে এই পেনশন প্রকল্পে যোগ দেওয়ার যোগ্য হবেন না। অর্থাৎ, বেতনসীমা বাড়ানোর ফলে ইপিএফের আওতা সম্প্রসারিত হলেও পেনশনের যোগ্যতা নির্ধারণে পূর্ববর্তী সদস্যপদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বেতনসীমা বৃদ্ধির ফলে পেনশনযোগ্য বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫,০০০ টাকা হলে, নিয়োগকর্তার পেনশন অবদানের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। প্রচলিত ৮.৩৩ শতাংশ হারে হিসাব করলে ১৫,০০০ টাকার ক্ষেত্রে মাসিক অবদান হয় সর্বোচ্চ ১,২৪৯.৫০ টাকা, যা সাধারণত ১,২৫০ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২৫,০০০ টাকার ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ২,০৮৩ টাকা হতে পারে।

তবে এই অঙ্ক প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রকৃত অবদান নির্ভর করবে কর্মীর পেনশনযোগ্য বেতন, সদস্যপদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের উপর। পাশাপাশি, ইপিএসের জন্য নিয়োগকর্তার অবদান তাঁর নির্ধারিত প্রভিডেন্ট ফান্ড অবদানেরই একটি অংশ। এটি কর্মীর বেতন থেকে পেনশনের নামে আলাদা করে কেটে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ নয়।

ইপিএফও জানিয়েছে, বেতন থেকে নির্ধারিত অর্থ জমা পড়ছে না বলে মনে হলে কর্মীদের প্রথমে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে ইপিএফওর কাছে অনলাইনে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর সময় বেতনের বিবরণ এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখা জরুরি।

তাই বেতনসীমা বৃদ্ধির খবর জানার পাশাপাশি কর্মীদের নিজেদের ইপিএফ ও ইপিএসের সদস্যপদের অবস্থা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, বেতন ২৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকলেও পেনশনের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণের উপর।