সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই বাজেটকে ইতিবাচক বলেই মনে করছে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য মহল। অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে দীর্ঘমেয়াদে বিকশিত অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা রয়েছে এই বাজেটে। তাই এই বাজেট স্বাগত।
রাজ্যের বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে বণিক সংগঠন ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি)। সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব সিং বলেন, ‘সামাজিক কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বেঙ্গল এআই মিশন-এর মতো ভবিষ্যতমুখী উদ্যোগ এই বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ।’ পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর, পুরুলিয়া, মালদা, কোচবিহার ও কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, সেমিকন্ডাক্টর ও বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা শিল্পোন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে বণিক সংগঠন ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স বা আইসিসি। একই সঙ্গে ১০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল এবং কৃষি ক্ষেত্রে শস্যবিমা, কোল্ড স্টোরেজ ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করার উদ্যোগকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বণিক সংগঠনগুলি।
অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়ার মতে, এই বাজেটের সবচেয়ে বড় শক্তি হল উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম হিসেবে দেখা হয়েছে। পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পের উপর সমান জোর দেওয়ায় ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আরপিএসজি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এবং ভাইস চেয়ারম্যান শাশ্বত গোয়েঙ্কাও রাজ্য বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উৎপাদন শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি, লজিস্টিকস, বিমান চলাচল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গকে আরও প্রতিযোগিতামূলক রাজ্যে পরিণত হতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি ‘পিএম সূর্য ঘর’ প্রকল্পের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নতুন উন্নয়নের দিশা দেখাবে।
শিল্পপতি পঙ্কজ ধানুকা মনে করেন, বিপুল ঋণের বোঝা থাকা সত্ত্বেও প্রথম বাজেটেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগোনোর দিশা দেখিয়েছেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী। এআই মিশন, দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট এবং নতুন বিমানবন্দরের মতো ঘোষণাগুলিতে সরকারের দূরদর্শিতার পরিচয় রয়েছে। ফিউশন সিএক্স-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা কিশোর সারাওগি বলেছেন, এআই-ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে রাজ্যের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী এবং শিল্পের ভবিষ্যতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অ্যাসোচ্যামের পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান তরনজিৎ সিং রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রূপরেখা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে পূর্তি রিয়েলটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহেশ আগরওয়ালের মতে, চিংড়িঘাটা-নিউ টাউন এলিভেটেড করিডোর, কল্যাণী বিমানবন্দর এবং ভূমি সংস্কার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি রিয়েল এস্টেট ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
লেজার পাওয়ার অ্যান্ড ইনফ্রার চেয়ারম্যান দীপক গোয়েল বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং এআই-চালিত ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনাকে যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে কেভেন্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান মায়াঙ্ক জালান বলেছেন, ‘কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিল্প ও পরিকাঠামোয় সরকারের গুরুত্ব দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, শিল্পমহল সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে আগ্রহী।




