ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে জাহাজ চলাচল । তারই মধ্যে এলপিজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডডারক সরবরাহের উপরে বিধিনিষেধ শিথিল করল কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও নন ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এক লপ্তে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক চাহিদার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ফলে তেল সংস্থা হোটেল রেস্তোরা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে পারবে।
সমস্ত রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের উদ্দ্যেশ্যে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিবের দাবি, পশ্চিমন এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার মধ্যে গৃহস্থালির জন্য রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সেই নি্র্দেশ আপাতত শিথিল করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের তেল বিপণন সংস্থাগুলির তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হবে। নজরদারি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে তিনটি সরকারি ওএমসিসর মধ্যে একটি অভিন্ন ডেটাবেসও তৈরি করা হতে পারে।
আমেরিকা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভয়ানক ভাবে প্রভাব পড়েছিল এলপিজি সহ অপরিশোধিত তেলের বিষয়ে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল মুদ্রাস্ফীতিও। যার প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতেও। কিন্তু কূটনৈতিক স্তরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে চলেছিল ভারত। সেই সঙ্গে ছিল রাশিয়ার বন্ধুত্ব। তাই ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়তে হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই বেশি জটিল হয়েছিল একাধিক বিমান সংস্থা বাধ্য হয়েছিল টিকিটের দাম বাড়াতে। তাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে একাধিক রুটে বেশ কিছু বিমান সংস্থা তাদের পরিষেবা বন্ধ করেছিল। আর তার ফলে সমস্যাতে পড়তে হয়েছিল সাধারণ আমজনতাকে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে বিরোধীদের তরফে একাধিকবার আক্রমণ করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। কিন্তু তারপরেও ঠান্ডা মাথাতে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছিল ভারত সরকার। অবশেষে এই পদক্ষেপের ফলে দেশের সাধারণ মানুষজন কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার এই পদক্ষেপ কত দ্ররুত কার্যকর করা হয়।




