টলিপাড়ায় এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বুধবার দুপুরে আচমকাই ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা স্তব্ধ করে দিয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে। রহস্যজনক পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ খ্যাত বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ এখনও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মী, বন্ধু এবং অসংখ্য অনুরাগী। বাংলা সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতার এমন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ টলিউড।
ঘটনার পরই গড়িয়াহাট থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে পরিচালকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট, যা দেখে চিকিৎসকরাও বিস্মিত। রিপোর্ট অনুযায়ী, শরীরের একাধিক অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। মাথা, পাঁজর, কোমর এবং পায়ে মারাত্মক চোটের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘর্ষণের দাগ মিলেছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণেরও উল্লেখ রয়েছে প্রাথমিক রিপোর্টে। তদন্তকারীরা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন।
Advertisement
এই আবহেই পরিচালকের শেষকৃত্য কবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন প্রয়াত পরিচালকের স্ত্রী সন্ধি দত্ত। পরিবারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আজ অনীক দত্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে না। বর্তমানে বিদেশে থাকা মেয়ে ঐশীর কলকাতায় ফেরার অপেক্ষাতেই রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মেয়ের ফিরে আসার পরই শেষযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
পারিবারিক সূত্রের খবর, আজ সমস্ত প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হলেও আগামীকাল পরিচালকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারে। তবে শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের স্থান নিয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, মরদেহ নন্দনে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে পরিবার সিদ্ধান্ত বদল করে। জানা গিয়েছে, শেষ শ্রদ্ধার জন্য অনীক দত্তের মরদেহ রাখা হবে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতে। সেখানেই সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সহকর্মী এবং অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন প্রিয় পরিচালককে।
এরপর সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শ্মশানে। পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য ও দাহকার্য। অনীক দত্তের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেই মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। তাঁর মৃত্যু ঘিরে এখনও রয়ে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
Advertisement



