ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
আশাজী আমাদের জীবনের সংস্কৃতি আর সুর-সঙ্গীত বিষয়ের দেবী ছিলেন। আমার মনে হয়, এমন নক্ষত্ররা মহাকাশ থেকে কখনো কখনো খসে পড়েন। তেমনই এক খসে পড়া নক্ষত্র আশা ভোঁসলে।
Advertisement
অবশ্যই জানতাম যে ওঁর শরীর ভাল নেই। মন সায় না দিলেও মেনে নিতে হয় যে একদিন সবাই আমাদের ছেড়ে যান। বলছি চলে যাওয়া…কিন্তু আমার মনে হয় এই ধরণের, এই মানের শিল্পী যাঁরা, তাঁরা কখনও চলে যান না। তাঁরা তাঁদের কীর্তিতে উজ্জ্বল হয়ে থেকে যান আমাদের সবার নিবিড় ভালবাসায়। এমন শিল্পীদের মৃত্যু হয় না, ওঁরা অমর…কালজয়ী।
Advertisement
ওঁর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক জগতের এক নক্ষত্রপতন হল। তবে উনি আমাদের যা দিয়ে গেলেন, ৯২ বছর বয়স পর্যন্ত যেভাবে উনি গেয়ে গেলেন এবং এন্টারটেইন করে গেলেন, তা অতুলনীয়। ‘শী ওয়াজ আ রিয়াল এন্টারটেইনার’। এন্টারটেইনমেন্টের শেষ কথা…আশা ভোঁসলে।
আশা ভোঁসলে এমন একটা নাম, যাঁর সঙ্গীত শুধুমাত্র আমাদের নয়, আমাদের পরবর্তী যত প্রজন্ম আসবে তাদের সকলকে সমৃদ্ধ করবে। সবাই জানবে, ওঁর শিল্প নিয়ে। জানবে, কেন উনি কিংবদন্তি, কেন তিনি কালোত্তীর্ণ। ঠিক আমরা যেমন আজও আমাদের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের কথা জানি, ঠিক তেমনই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ‘আশা ভোঁসলে’ নামে আচ্ছন্ন হয়ে থাকবে।
আমার খুবই সৌভাগ্য যে, আমার জন্য অনেকগুলো প্লে-ব্যাক আশাজী করেছিলেন। বেশ কিছু গানে আমি মহান এই শিল্পীর জন্য লিপ দিতে পেরেছিলাম। সেটা আমার অভিনয় জীবনের বড় পাওনা।
আমি মনে করি, উনি যেখানেই থাকবেন সেখানেই তাঁর সুর-সঙ্গীত সৃষ্টি করবেন। আজকের দিনে আশাজীকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। আমরা অপেক্ষা করব, আবার কবে এই পৃথিবীতে আমরা একজন আশা ভোঁসলেকে পাব।
Advertisement



