নারী দিবসের প্রাসঙ্গিকতা আছে। অনেকেই বলেন, নারী দিবসের প্রয়োজন নেই। এখানে যে গলদটা আছে বলে আমার মনে হয়, তা হল নারী দিবসের যে একটা ইতিহাস আছে, যে প্রেক্ষিতে এই দিন টাকে সেলিব্রেট করা হয়, সেটা আমরা ভুলে যাই। আমরা যদি বলি স্বাধীনতা দিবস পালন করব না। সেটা তো হয় না। একটা ইতিহাস আছে। তাই সেটাকে আমরা উদযাপন করি, পালন করি।
তেমনই এই নারী দিবসের ইতিহাস আছে। তাই এই দিনটার প্রাসঙ্গিকতা কোনও দিনই যাবে না। আর অনেক আন্দোলন অনেক যুদ্ধ করে নারীরা এই জায়গায় আছে। এখনও সেই লড়াই আন্দোলন করতে হয় মেয়েদের। আমরা যে করে কম্মে খাই এখন, সেটা আমাদের পূর্বনারীদের জন্য। বিশ্বব্যাপী পূর্বনারীদের জন্য। তাই নারী দিবসের প্রাসঙ্গিকতা সারাজীবন থাকবে। আর এখনের কথা যদি বলো, তালে আমরা তো সেই সাম্যের দুনিয়ায় এখনও যেতে
পারিনি। তাই আমি মনে করি ঐতিহাসিকভাবেও নারী দিবসের প্রাসঙ্গিকতা সারা জীবন থাকবে।
Advertisement
দেখো, নারীবাদ বলে তুমি সবাইকে সমান সুযোগ দাও, সে যেন সবটা তার মত করে আদায় করতে পারে। কিন্তু ব্যাপার যেটা, আমার যেটা মনে হয় যে, আমরা মনে করেই পুরুষদের মত হওয়া মানে ক্ষমতাশালী হওয়া। পুরুষদের মত হওয়া মানে স্বাধীনতা পাওয়া। আমরা তো একটা জেন্ডার নিউট্রাল সমাজের দিকে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু এখানেই সমস্যা। আমরা এখন কী ভাবি, বাড়ি আর ভাইরে সমান তালে না সামলালে আমি ক্ষমতাশালী হব না। ধরো একজন সেটা পারছে না সামলাতে। তখন সে নিজেকে দূর্বল ভাবছে। চারপাশের আরও দশজন তাকে দূর্বল ভাবছে। এটা তো হওয়ার ছিল না।
Advertisement
অনেকে বলেন আমি নারীকেন্দ্রিক ছবি লিখি। কেউ দিওয়ার দেখতে গিয়ে বা দেখে এসে বলেন পুরুষকেন্দ্রিক ছবি দেখে এলাম! এটা দৃষ্টিভঙ্গি। এভাবেই সমাজ চলছে। আমার চরিত্রেরা প্রতিবাদ করে। তাদের নিজেদের জীবনের বদল দিয়ে। স্বাধীনতার মানে কিন্তু স্ব আর অধীন আছে। মানে আমি আমার অধীনে। আমরা স্বাধীনতাটার মানে ঠিক করে বুঝতে পারছি না হয়তো। আমার মনে হচ্ছে না, কেউ অপব্যবহার করছে। আমার মনে হয়, বোঝার সমস্যা হচ্ছে।
Advertisement



