• facebook
  • twitter
Friday, 22 May, 2026

‘কার্তব্য’ গুরুত্বপূর্ণ গল্প, কিন্তু অসম্পূর্ণ উপস্থাপন

শুরুতে মনে হয়, নির্মাতা হয়তো নির্ভয়ে সমাজের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরবেন। কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই চিত্রনাট্য কিছুটা নিরাপদ পথে হাঁটতে শুরু করে।

শুভম বসু

নেটফ্লিক্সের নতুন ছবি ‘কার্তব্য’ উত্তর ভারতের সমাজ-রাজনীতি, জাতপাতের বিভাজন এবং ক্ষমতার অন্ধকার দিককে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি রাজনৈতিক থ্রিলার। পরিচালক পুলকিত এমন এক গল্প বলতে চেয়েছেন, যেখানে ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসহায় লড়াই ফুটে ওঠে। বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বর্তমান সময়ের জন্যও বেশ প্রাসঙ্গিক। তবে ছবিটি শুরুতে যে প্রত্যাশা তৈরি করে, শেষ পর্যন্ত সেই উচ্চতায় পুরোপুরি পৌঁছাতে পারে না। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পুলিশ অফিসার পবন, যাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সইফ আলি খান। এক সাংবাদিককে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর চোখের সামনেই ঘটে ভয়াবহ হামলা। সাংবাদিক নিহত হন এবং তাঁর সহকর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর নিজের দায়িত্ববোধ ও পেশাগত সম্মান রক্ষার জন্য তদন্তে নামেন পবন। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে আরও ভয়ংকর কিছু সত্য— জাতপাতের সংঘাত, নিখোঁজ মানুষের রহস্য, ধর্মীয় প্রভাব এবং ক্ষমতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি ও শোষণের চিত্র।ছবির প্রথমার্ধ বেশ টানটান এবং আগ্রহ ধরে রাখে।

Advertisement

শুরুতে মনে হয়, নির্মাতা হয়তো নির্ভয়ে সমাজের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরবেন। কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই চিত্রনাট্য কিছুটা নিরাপদ পথে হাঁটতে শুরু করে। যেসব জায়গায় আরও গভীরতা ও সাহস দেখানোর সুযোগ ছিল, সেখানে নির্মাতা সংযত থেকেছেন। ফলে ছবির প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যায়। বিশেষ করে শেষ অংশে অনেক ঘটনাই খুব সহজভাবে মিটে যায়, যা থ্রিলারের উত্তেজনাকে দুর্বল করে দেয়। অভিনয়ের দিক থেকে সইফ আলি খান যথেষ্ট ভালো করেছেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক পুলিশ-কর্তার চরিত্র তিনি স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

Advertisement

সঞ্জয় মিশ্র ও রসিকা দুগ্গলও স্বল্প উপস্থিতিতে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে খলনায়কের চরিত্রটি আরও শক্তিশালী হতে পারত। চরিত্রটিতে ভয় বা রহস্যের যে গভীরতা প্রয়োজন ছিল, তা পুরোপুরি দেখা যায় না। খলনায়কের চরিত্রে সাংবাদিক সৌরভ দ্বিবেদি আলাদা একটা রহস্যময় ভাব আনার চেষ্টা করেছেন। তবে চরিত্রটাকে যতটা শক্তিশালী লাগার কথা ছিল, তা পুরোপুরি মনে হয়নি। ক্যামেরার কাজ, আবহসংগীত এবং সংলাপে উত্তর ভারতের বাস্তব পরিবেশ ফুটে উঠেছে। তবে চিত্রনাট্যের দুর্বলতা ছবিটিকে শেষ পর্যন্ত একটি অপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবেই রেখে দেয়।সব মিলিয়ে, ‘কার্তব্য’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। যদিও এটি নিজের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি, তবুও সমাজ-রাজনীতি ও বাস্তবধর্মী থ্রিলার পছন্দ করেন এমন দর্শকদের কাছে ছবিটি একবার দেখার মতো হতে পারে। বিশেষ করে সইফ আলি খানের অভিনয় এবং ছবির প্রথমার্ধ দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখবে।

Advertisement