শোভন মণ্ডল
মা-বাবা দু’জনেই তাঁদের কর্মজীবনে ব্যস্ত। সন্তানের পেছনে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও অবসর নেই একটু গল্প করার, একটু সময় দেওয়ার। শিশুর ভবিষ্যৎ আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করার দৌড়ে, মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে তারা। ফলে একটা গোটা প্রজন্মকে অবসাদ গ্রাস করছে। সমাজের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টাই খুব সহজভাবে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘ইতি’তে তুলে ধরা হয়েছে।
Advertisement
সম্প্রতি কলকাতায় ১১তম বেঙ্গল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে এই ছবি। স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত ও অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু, সঙ্গে ছিলেন ছবির পরিচালক ও অন্যান্য কলাকুশলীরা।
Advertisement
পরিচালক অভিষেক দে সরকারের এই কাজ আন্তর্জাতিক স্তরেও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ারের পর দুটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে শ্রেষ্ঠ পরিচালক (ডেবিউ) পুরস্কার জিতে নেয় এই ছবি। পাশাপাশি ইন্দো-দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালে ‘বেস্ট শর্ট ফিল্ম’ খেতাবও জিতে নিয়েছে এই ছবি। নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যান্ড সিনেমাটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডস এবং বার্লিন লিফট-অফ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও অফিসিয়াল সিলেকশন হয়েছে ‘ইতি’র।
ছবির মূল গল্প এক শিশুকে ঘিরে। যে বাবা-মায়ের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে বড় হচ্ছে। বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে জমতে থাকে একাকীত্ব। সেই আবেগ, সেই না-বলা কষ্ট খুবই নরম ছোঁয়ায় দেখানো হয়েছে ছবিতে। ফলে বিষয়টা যেমন বাস্তব, তেমনই ভাবনারও।
পরিচালক অভিষেক দে সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এতদিন তিনি ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ার গড়ার পথে সাহায্য করেছেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন, শুধু সাফল্যই সব নয়। মানসিক দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ভাবনা থেকেই এই ছবি তৈরি।’ তাঁর কথায়, ‘ইতি: দ্য বিগিনিং’ থেকেই আসলে তাঁর যাত্রাপথ শুরু হচ্ছে। এরপর আরও অনেক গল্প বলতে চান তিনি।
Advertisement



