প্রশ্ন: ২০২৫ তোমার জন্য স্পেশ্যাল। মানুষ ‘স্বার্থপর’ ভীষণ পছন্দ করেছে। এবার ‘মিতিন মাসি’।
কোয়েল: হ্যাঁ, একদমই তাই। এই বছরটা স্পেশ্যাল হয়ে থাকবে। এত ভালোবাসা পেয়েছি ‘স্বার্থপর’-এর জন্য।
Advertisement
প্রশ্ন: ‘স্বার্থপর’-এ তোমাকে দারুণভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। দারুণ চিত্রনাট্য। মানুষের মনে থেকে যাওয়ার মত একটা ছবি।
Advertisement
কোয়েল: একদম। ‘স্বার্থপর’-এর চিত্রনাট্য আমাকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছে, তা অনবদ্য। ছবি মুক্তির আগে আমি ভাবছিলাম, ১০টা মানুষও যদি ছবিটা দেখে একটু ভাবে, ওটাই আমাদের প্রাপ্তি হবে। কিন্তু এত মানুষ ছবিটা দেখেছেন, ভালোবেসেছেন। ছবিটা দর্শকদের মনে যে ইমপ্যাক্ট ফেলেছে, সেটা দারুণ বিষয়। এই বছরটা চিরকাল আমার জন্য স্পেশ্যাল থাকবে। তার থেকেও বড় কথা, অনেক বছর পর বাবার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বাবা যে কাজটা করার জন্য ‘হ্যাঁ’ বলেছে এটাই অনেক। বাবা ছাড়া এই ক্যারেকটারটা কেউ করতে পারতেন না। সকলকে রেসপেক্ট করেই এই কথাটা বলছি। তাই এই বছরটা স্পেশ্যাল। এই বছর বেশ কিছু ভালো বাংলা ছবি হয়েছে। বছর শেষে ‘মিতিন মাসি’ আসছে।
প্রশ্ন: বড়দিনে ‘মিতিন মাসি’ রিলিজ হল। এর আগেও ‘মিতিন মাসি’ হিসেবে তোমাকে পেয়েছি। আমার কৌতূহল হচ্ছে, ব্যক্তিগত জীবনে কোয়েল কতটা গোয়েন্দাগিরি করে?
কোয়েল: গোয়েন্দাগিরিটা করি কিনা জানি না (হাসি)। তবে আমরা কোথাও না কোথাও তো দুইয়ে দুইয়ে চার করার চেষ্টা চালাই। কখন, কোথায়, কীভাবে করেছি বলা মুশকিল। তবে আমার মনে হয়, সবারই একটা কম-বেশি ‘ইনভেস্টিগেটর নেচার’ আছে। মিতিনের সঙ্গে যেখানে আমি ভীষণভাবে কানেক্ট করি তা হল, ‘মিতিন মাসি’ ভীষণ ওল্ড স্কুল, আবার সেমটাইম ভীষণ আধুনিক। এই কম্বিনেশনটা ভীষণ ফ্যাসিনেটিং। মিতিনের এজেন্সির নাম ‘তৃতীয় নয়ন’। ‘থার্ড আই’। কোথাও গিয়ে ও নিজেও হয়তো মনে করে আমাদের একটা সিক্সথ সেন্স আছে। আমাদের একটা তৃতীয় নয়ন আছে। এই সব কিছু আমি খুব কানেক্ট করতে পারি।
প্রশ্ন: সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কোন কোন লেখা তোমার প্রিয়?
কোয়েল: আমার ভালো লাগে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা আগে পড়েছি। ‘মিতিন মাসি’ও পড়েছি। কিন্তু আমি করব এটা ভেবে পড়িনি। ঠিক যেভাবে ফেলুদা-ব্যোমকেশ পড়া, সেভাবে ‘মিতিন মাসি’ও পড়েছি।
ছবি করার আগে গল্পগুলো আমি বারবার পড়ি। ‘মেঘের পরে মেঘ’ আমি আবার পড়লাম। কানেক্ট করার জন্য। কারণ, এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। তাই ছবিতে বেশ কিছু চেঞ্জেস হয়। ফোন, সিসিটিভি, মনিটর। আগে তো এসব ছিল না। তাই কিছু চেঞ্জ হলেও, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের গল্পের যে এসেন্স সেটা আমি রাখতে চেয়েছি। তাই একাধিক বার পড়েছি।
প্রশ্ন: গল্প পড়লে ভালো করে স্কেচ করা যায়?
কোয়েল: একদম। পড়াটা জরুরি। দেখো, ছবিতে আমরা অনেক কিছু হয়তো মিস করব। কিন্তু না পড়লে বুঝব কীভাবে কেমন ছিলেন তিনি? চরিত্রে সেটা ফুটিয়ে তোলা সমস্যার। যেমন সে কোথা থেকে পড়াশোনা করেছে, সেটা স্ক্রিপ্টে নেই। কিন্তু কোথা থেকে পড়েছে সেটা জানা জরুরি। কারণ, সেই ছাপটা চরিত্রে আমাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
প্রশ্ন: প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই চান এমন একটা চরিত্রে কাজ করতে, যেটা থেকে যাবে। ভবিষ্যতে কেরিয়ার গ্রাফ দেখলে এই নির্দিষ্ট ছবি দেখলেই মনে হবে এমন একটা চরিত্রে আমি কাজ করেছি। মিতিনও তোমার কাছে নিশ্চয় তেমন?
কোয়েল: একদমই তাই। এমন একটা চরিত্র এটা, যা আমি আগে করিনি। আর মিতিন শুরু করা হয়েছে আমাকে দিয়ে। এটা আমার কাছে আনন্দের। মানুষের আশীর্বাদ ভালোবাসায় মিতিন সাসকেসফুল হয়েছে। আর মিতিন এমন সময় তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে, যখন মেল ওরিয়েন্টেড ডিটেকটিভ সিনেমায় মানুষ অভ্যস্ত। একজন পুরুষ গোয়েন্দা ক্যারেকটার করলে একরকম স্বাদের হবে। আর একটা মহিলা করলে আরেক রকমের স্বাদের। কারণ, মেয়েটা খুন্তি নাড়াবে, আবার পিস্তলও ধরবে। মহিলারা ভুলতে বসেছে তাদের পাওয়ার। মহিলাদের মধ্যে একটা সিক্সথ সেন্স রয়েছে। ‘মিতিন মাসি’ যখন প্রথম করেছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম একটাই করব আর করব না। কারণ ফ্যান-বেস নাও হতে পারে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা। মানুষ পছন্দ করছেন৷ তাই ‘মিতিন মাসি’ আবারও আসছে।
প্রশ্ন: আগেরগুলোর থেকে এই ছবি কি একটু আলাদা?
কোয়েল: আলাদা নয়। তবে এবারেরটা মার্ডার মিস্ট্রি। এবারেরটা আরও কঠিন। ক্লু থেকে বারবার ঘেঁটে যায় কেস। কিন্তু মিতিনের যেটা সবথেকে আমার পছন্দ, তা হল, ওর মাথায় সবসময় চলে ‘আমাকে জিততে হবে’। জেতা ছাড়া ওর উপায় নেই। ও হারতে আসেনি। এটাই আমার কাছে খুব ইন্সপায়ারিং। ‘স্বার্থপর’-এর সময় মানুষের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, অনেকেই বলেছেন মিতিন কবে আসছে। মিতিনের জন্য অপেক্ষা করছে। সেটাও খুব সাহস জুগিয়েছে।
প্রশ্ন: অরিন্দম শীলের কাজের একটা ধরন আছে। কেমন লাগে অরিন্দম শীলের সঙ্গে কাজ করে?
কোয়েল: ভীষণ ভালো। আর একটা বিষয় হল, অরিন্দমদা থ্রিলারটা ভীষণ ভালো করে বানান। রিসার্চ থেকে সেট ডিজাইন, কীভাবে কী হবে। কতটা হবে। সব ভেবে গুছিয়ে একটা কাজ করেন। এটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। শবর থেকে সব ক’টা মিতিন অরিন্দম শীলের হাত ধরে। থ্রিলারের একটা প্যাটার্ন আছে। অন্যান্য ছবির থেকে আলাদা। ডায়লগ থ্রোয়িং থেকে শুরু করে গল্প বলার ধরন, সবই একটু আলাদা হয়। অরিন্দমদা সেগুলো ভীষণ ভালো করে জানেন। আবারও ওঁর সঙ্গে কাজ করে ভীষণ ভালো লেগেছে।
প্রশ্ন: একদিকে অভিনয়, আরেকদিকে সংসার। দুই সন্তান নিয়ে জীবন কেমন কাটছে?
কোয়েল: ভীষণ ভালো। ভীষণ ভীষণ ভালো। এটা বললেও কম বলা হবে। সকালে উঠে দুই সন্তানকে একসঙ্গে খেলতে দেখলে খুব আনন্দ হয়। ছোটটা তো ভীষণ ছোট। বড়টার ৫ বছর, ও একটু বড় হয়েছে।
প্রশ্ন: কবীরের সঙ্গে দাদুর তো ভীষণ ভালো বন্ডিং।
কোয়েল: হ্যাঁ। দাদুর সঙ্গে ভীষণ ভালো ভাব। বাবার প্রাণ কবীর।
প্রশ্ন: দাদুর ছবি দেখেছে সে?
কোয়েল: না ওভাবে হয়নি। তবে ‘স্বার্থপর’-এর সেটে একবার এসেছিল কবীর। তখন খুব সিরিয়াস একটা সিন চলছিল। বাবার ডায়লগ ছিল অনেক। ও জানে দাদু সিনেমা করে। কবীর জানে ওর মাও অভিনয় করে। রাস্তায় হোর্ডিং দেখে।
প্রশ্ন: কখনও কিছু প্রশ্ন করে?
কোয়েল: নাহ। করে না। আমিও করতাম না, জানো তো! আমি জানতাম, বাবা অভিনেতা। তেমনভাবে ও বোঝে সবই।
প্রশ্ন: রানের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক বাচ্চাদের? রানে কতটা ভালো বাবা?
কোয়েল: ভীষণ ভালো। রানে ভীষণ ভালো বাবা। তবে একটু ‘ওভার কেয়ারিং’। একটু ‘ওভার কেয়ারিং’ হলে আমার আবার একটু অসুবিধা হয়। তবে বাচ্চারা শুধু আমার কাছেই একটু বকা-ঝকা খায়।
প্রশ্ন: সাহেব এই ছবিতে একটা ভালো চরিত্রে অভিনয় করছেন? অনেক ভালো কাস্ট এই ছবির। কার সঙ্গে কাজ করে ভালো লাগলো?
কোয়েল: একজনের নাম নিতে পারব না। এই ছবির কাস্ট ভীষণ ভালো। সক্কলে অসাধারণ কাজ করেছেন। আর সাহেবের সঙ্গে আমার সিন না থাকলেও, সাহেব অসাধারণ কাজ করেছেন। ওঁর অভিনয় দক্ষতাও চূড়ান্ত পর্যায়ের। খুব ভালো লেগেছে কাজ করে।
প্রশ্ন: তোমার বাবা তোমার ক্রিটিক। মিতিন দেখে কী বলেছেন?
কোয়েল: বাবার ভীষণ ভালো লেগেছে। বাবা দেখেছেন। আমি খুব খুশি। আর এবারের মিতিন অনেক ম্যাচিওর। আর ‘স্বার্থপর’ দেখে বাবা আমাকে ১০০-তে ১০০ দিয়েছে। বাবার থেকে পাশ মার্ক পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।
প্রশ্ন: তাহলে এবারের কেস জটিল। তাই তো।
কোয়েল: হ্যাঁ এবারের কেস জটিল। এবারের মিতিন অনেক বেশি পরিণত। আমি আশা করব এই ছবি মানুষের ভালো লাগবে।
Advertisement



