• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

দুর্গাকে অসুর বধ করতে কুঠার দিয়েছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা

বর পেয়ে বলীয়ান হয়ে ওঠেন মহিষাসুর। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল জুড়ে অসুর সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। শুরু হয় নির্মম অত্যাচার ও অকাতরে নরহত্যা

দুর্গাকে অসুর বধ করতে কুঠার দিয়েছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা

Image: ANI

অসুররাজ রম্ভার পুত্র মহিষাসুর (Mahishasura)। কঠোর তপস্যা জন্য ব্রহ্মার কাছ থেকে পেয়েছিলেন বর। তবে তিনি অমরত্বের বর চাইলেও ব্রহ্মা সে বর মহিষাসুরকে (Mahishasura) দেননি। কোনও দেবতা, মানুষ কিংবা পশু তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। একমাত্র কোনও নারীই বধ করতে পারবে মহিষাসুরকে (Mahishasura)। এককথায় সেই বর নিতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। মহিষাসুর (Mahishasura) ভেবেছিলেন, কোনও নারীর পক্ষে তাঁর মতো অমিতশক্তিশালী অসুরকে বধ করা সম্ভব নয়। এই বর পাওয়া মানেই অমরত্ব লাভ করা।

সেই বর পেয়ে বলীয়ান হয়ে ওঠেন মহিষাসুর। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল জুড়ে অসুর সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। শুরু হয় নির্মম অত্যাচার ও অকাতরে নরহত্যা। অগ্নি ও ব্রক্ষার বরে বলীয়ান মহিষাসুরের (Mahishasura) হাত থেকে রক্ষা পাননি সাধুসন্তরাও। মর্ত্যে রক্তসাগর ভাসিয়ে, দেবতাদের যুদ্ধে পরাজিত করে স্বর্গ দখল নিয়েছিলেন মহিষাসুর (Mahishasura)। মহাদেব, শ্রী বিষ্ণু এবং ব্রহ্মাকে মহিষাসুরের (Mahishasura) ভয়াবহ অত্যাচার ও স্বর্গ দখলের কথা জানান ইন্দ্র।

আরও পড়ুন: বিশ্বকর্মা পুজো সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ কেন হয়? এবছর ১৮ সেপ্টেম্বর কেন হচ্ছে?

ইন্দ্রের কথা শুনে সেই সময় ভেসে ওঠে এক সুরেল নারী কণ্ঠ। সকল দেবতার সর্বপ্রকার তেজ একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হবে মহাশক্তি। সেই মহাশক্তিপুঞ্জ প্রবেশ করবে রণরঙ্গিনী দেবীর শরীরে। তোমরা তোমাদের অস্ত্র সেই দেবীকে প্রদান করো। তিনিই বিনাশ করবেন মহিষাসুরকে (Mahishasura)। মহাদেবীর মহাবাণী শুনে স্মিত হেসেছিলেন দেবী পার্বতী, দেবী সরস্বতী ও দেবী লক্ষ্মী।

ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর ও বাকি দেবতাদের দেহ থেকে বের হয়েছিল তেজরাশি। ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে মহাদেবীর তিন রূপ পার্বতী, সরস্বতী ও লক্ষ্মী এক দেহে বিলীন হয়ে যান। সেই নব দেহে প্রবেশ করেছিল দেবকুলের তেজপুঞ্জ। আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী ক্যাতায়নী।

দেবীর শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছিল বিনাশের ভয়াবহতা ও সীমাহীন লাবণ্য। দেবতারাও দেবীর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছিলেন না। সুরেলা ও কঠোর কণ্ঠে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনি ঋষি কাত্যায়নের কন্যা দেবী কাত্যায়নী। দুর্গা রূপে অশুভকে বিনাশ করার জন্য জন্ম নিয়েছেন। দেবতারা তাঁকে প্রণাম জানিয়ে দেবীকে রণসাজে সজ্জিত করেছিলেন নিজেদের অস্ত্র দিয়ে। দেবী মহামায়া দশভুজা। দেবতারা নিজ নিজ অস্ত্র দিয়েই সাজিয়ে তোলেন মহাদেবীকে। আর সেই দশ অস্ত্র দিয়েই তিনি অসুর সংহার করেন।

আরও পড়ুন: বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, আজও তাঁর ঐতিহ্য বহমান

দেবীর হাতে যে চক্র শোভা পায়, সেই সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন ভগবান বিষ্ণু। দেবী দুর্গার হাতে এই অস্ত্র দৃঢ়তা ও ঐক্যের প্রতীক। দেবীকে বজ্র দিয়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। দেবীর বজ্র মিথ্যা ও অজ্ঞতাকে ধ্বংস করে। দেবাদিদেব মহাদেব পার্বতীকে ত্রিশূল দিয়েছিলেন। ত্রিশূলের তিনটি ফলা সত্য, তমঃ, রজঃ-র প্রতীক। এই ত্রিশূল দিয়েই দেবী মহিষাসুরকে (Mahishasura) বধ করেছিলেন। বরুণ দেব দিয়েছিলেন শঙ্খ। শঙ্ঘের শব্দে ত্রিভুবনের সকল অশুভ শক্তি দূর হয়। গদা দিয়েছিলেন যমরাজ।

গদা মানুষের মোহকে চূর্ণ করে। গদা আনুগত্য ও ভক্তির প্রতীক। পবনদেব দুর্গাকে দিয়েছিলেন তির-ধনুক। অসুরদের সংহার করতে এই অস্ত্রের ব্যবহার করছিলেন দেবী। ধর্মরাজ দেবীকে দিয়েছিলেন খড়্গ। ন্যাবিচার ও মৃত্যুর প্রতীক এই অস্ত্র দিয়ে সমাজের বিভিন্ন বৈষম্য ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেন দেবী। ব্রহ্মা দেবীকে দিয়েছিলেন পদ্ম। পদ্ম পূর্ণ চৈতন্যের প্রতীক। দেবী দুর্গার হাতে পদ্ম সমগ্র চৈতন্যকে প্রকাশ করে। দেবীর হাতে সাপ দেখা যায়, তা দিয়েছিলেন মহাদেব। আর কুঠার দিয়েছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা(Vishwakarma Puja)। যা একই সঙ্গে নির্মাণ ও ধ্বংসের প্রতীক।

দেখুন:  নবান্নে বিশ্বকর্মা পুজো, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী