• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো) : ব্রিটেনের দুর্গাপুজো, শিকড়ে ফেরার তাগিদ

টেমসের তীরে খুঁটিপুজো থেকে শুরু করে বোধন, কুমারীপুজো, সন্ধিপুজো, অঞ্জলি এবং সিঁদুরখেলা বাঙালির চেনা নানা আচারই থাকবে এই আয়োজনে। পাশাপাশি রয়েছে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো) : ব্রিটেনের দুর্গাপুজো, শিকড়ে ফেরার তাগিদ

Image: SNS

বাঙালি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, শারদোৎসবে (Durga Puja) মাতবেই। দেশের বাইরে ব্রিটেনের বাঙালি সব কিছু ভুলে চারদিন দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) মেতে ওঠে।ব্রিটেনে দুর্গাপুজো (Durga Puja)এখন আর শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লন্ডন, বার্মিংহাম ও স্লাউ-সহ বিভিন্ন শহরে পুজোর আয়োজন ক্রমশই হয়ে উঠছে বাঙালি সংস্কৃতি ও পরিচয়কে ধরে রাখার এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি, গান, গল্প, আড্ডা এবং পারিবারিক বন্ধন।

ক্যামডেনে এ বছর দুর্গাপুজো (Durga Puja) ৬১ বছরে পা দিয়েছে। এবারের পুজোর থিম হল নারীসত্তা ও নারী শক্তি। এই পুজোর সভাপতি ড. আনন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, সুইস কটেজ লাইব্রেরিতে তৈরি পুজোমণ্ডপের ভাবনায় থাকছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’। ‘শক্তি’-কে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে এবারের ভাবনা।

টেমসের তীরে খুঁটিপুজো থেকে শুরু করে বোধন, কুমারীপুজো, সন্ধিপুজো, অঞ্জলি এবং সিঁদুরখেলা বাঙালির চেনা নানা আচারই থাকবে এই আয়োজনে। পাশাপাশি রয়েছে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন: শরৎ এর রে: কংস নারায়ণের হাত ধরেই সর্বজনীন দুর্গাপুজোর শুরু, তাঁর নামে মূর্তি তৈরির রীতি চালু হয়

বার্মিংহামের পুজোর মূল সুর পারস্পরিক বন্ধন। বি-১২ ভিলেজ হলে বার্মিংহাম সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো একসময় কয়েকটি পরিবারের ছোট্ট আয়োজন ছিল। এখন সেটিই প্রায় ৪০টি পরিবারকে নিয়ে ঘরের পুজোয় পরিণত হয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রতিমা গিয়েছে। শিল্পী হলেন বাঁকে বিহারী অনন্ত ঘোষ। সংগঠনের সভাপতি আলোকচন্দ্র বলেন, ‘আমরা সবাই বাঙালি। বহু বছর ধরে এই পুজো আমাদের একসঙ্গে ধরে রেখেছে।‘

আয়োজকদের বক্তব্য, পঞ্জিকা মেনে পুজো, ভোগ, আড্ডা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্লাউয়ে পুজোর (Durga Puja) অন্যতম আয়োজক নীলোৎপল মণ্ডলের কথায়, ‘আমরা প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করি না। এখানে সবাই স্বাগত।‘ অর্থাৎ অন্য পুজোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার বদলে অংশগ্রহণকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

১৬ অক্টোবর থেকে গানার্সবেরি পার্কে শুরু হবে লন্ডন শারদোৎসব। অল ইন্ডিয়া রেডিওর শতবর্ষ পূর্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এবারের অনুষ্ঠান। আয়োজক সুরঞ্জন সোম, কৌশিক বসু এবং সৌরভ নিয়োগী। তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে থাকছে ধুনুচি নাচ, ঠাকুমার ঝুলি, ‘লন্ডনে গল্প’ এবং ‘গল্প মীরের ঠেক’। ভারত ও ব্রিটেনের শিল্পীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: প্যাঁচা কেন লক্ষ্মীর বাহন? আর রাজহাঁস সরস্বতীর?

এদিকে আদি শক্তি দুর্গাপুজো (Durga Puja) এ বছর দশে পা দিয়েছে। বাঙালি ছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আয়োজক পার্থ চৌধুরীর কথায়, ‘এক ছাদের তলায় গোটা দেশকে একত্রিত করার জায়গা এই অনুষ্ঠান।‘

প্রবাসে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পরবর্তী প্রজন্মের হাতে ঐতিহ্য তুলে দেওয়া। চিকিৎসকদের উদ্যোগে শুরু হওয়া ডাক্তারদের পুজো নামে পরিচিত বেঙ্গলি কালচারাল অ্যান্ড সোশ্যআল ক্লাবের দুর্গাপুজো এখন ক্রমশ তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের পরিচালনায় এগিয়ে চলেছে।

পুজোর সঙ্গে যুক্ত সুমনা আদকের মতে, ‘ব্রিটেনে দুর্গাপুজো এখন আর শুধু দেবীকে ঘরে আনার উৎসব নয়। এটি একটি সম্প্রদায়কে তার শিকড়ের কাছে ফিরিয়ে আনার এবং সেই শিকড়কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার উৎসব।

দেখুন: