• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 20 July, 2026

বিপুল কর্মসংস্থানের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের নয়া সময় শুরু হল বলে মনে হচ্ছে। এইবার হাওড়া জেলার ধূলাগড়ে, সাঁকরাইলে

বিপুল কর্মসংস্থানের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

Image: ANI

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের নয়া সময় শুরু হল বলে মনে হচ্ছে। এইবার হাওড়া জেলার ধূলাগড়ে, সাঁকরাইলে, আমূল ৭০০ কোটি টাকার নতুন দুগ্ধ প্রকল্পের ভূমিপূজোতে ব্যাপক চর্চা। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

কেন্দ্রীয় সমবায় মডেল আর রাজ্য সরকারের সরাসরি সাহায্যের জোরে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। সবাই আশা দেখছেন, এতে রাজ্যের কৃষি আর শিল্প দুক্ষেত্রেই বদল আসবে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোজাই বললেন, অমিত শাহ আর রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে এবার পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের মৌসুম ফিরছে। ‘বেঙ্গল মিনস বিজনেস’ বা ‘ডেস্টিনেশন বেঙ্গল’—এগুলো আর শুধু স্লোগান থাকছে না। আগে বহু পুঁজি রাজ্য ছেড়ে চলে যেত; এখন সেটা বন্ধ। মেধা, উর্বর জমি, আর আন্তর্জাতিক সীমান্ত—এসব কাজে লাগিয়ে, আগামী এক বছরে পশ্চিমবঙ্গ বড় বিনিয়োগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

‘আমূল’-এর পশ্চিমবঙ্গে আগমন নিয়ে তাঁর ধারণা, সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এবার একটু একটু করে বাস্তব হচ্ছে। তিনি আশাবাদী, আগামী দিনে আরও বড় বড় সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে পা রাখবে।

শ্বেত বিপ্লব ছড়িয়ে এবার গ্রামীণ আর্থিক ব্যবস্থাও এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সবার সামনে কৃষকদের আর দুগ্ধ শিল্পে যুক্ত মানুষদের স্বীকৃতি দিয়ে বললেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনাচিন্তায় আলাদা সমবায় ও মৎস্য দফতর হয়েছে, আর তার সুফল আজ দেশের মানুষ দেখছেন। গুজরাটের মডেল থেকেই প্রমাণ হচ্ছে, সমবায়ই বহুমুখী গ্রামীণ অর্থনীতির চাবিকাঠি হতে পারে।”

শুভেন্দু তুলে ধরলেন, আমূল শুরু করেছিল মাত্র ১১টি সমবায় আর দিনে ৫ হাজার কেজি দুধ সংগ্রহ দিয়ে। এখন পশ্চিমবঙ্গে তাদের অধীনে ৮৮০টি কো-অপারেটিভ মিলে দিনে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ কেজি দুধ সংগ্রহ হয়। এতে এক লক্ষ ২৫ হাজার কৃষক যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার নারী। নতুন প্লান্ট চালু হলে এখানে শুধু দুগ্ধ বিপ্লবই নয়, বাংলার বিখ্যাত মিষ্টি দইয়ের ব্যবসাও আরও বড় হবে।

এছাড়া রাজ্যের শিল্প আর কাজকর্ম আরও বাড়াতে, মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুরোধ করেন, দক্ষিণবঙ্গ আর উত্তরবঙ্গে দুটো বড় আইসক্রিম প্ল্যান্ট তৈরি হোক। তিনি আশ্বস্ত করেন, রাজ্য সরকার আলাদা করে ১৫ একর করে জমি তৈরি রেখেছে। এই ফ্যাক্টরিগুলো চালু হলে শুধু দুধ চাষিরা নয়, উচ্চ-দক্ষ, আধা-দক্ষ, অদক্ষ শ্রমিক, প্রায় ১০-১৫ হাজার হকার আর খুচরো ব্যবসায়ীও সরাসরি উপকৃত হবেন। তারপর রাজ্যের জিএসটিও বাড়বে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আর কৃষিকাজে নতুন মানে যোগ হচ্ছে—এতদিন যা শুধুই প্রতিশ্রুতি ছিল, এবার সেটা মাটিতে নেমে আসছে।