বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও মৃত্যু ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘কঠোরতম পদক্ষেপ’ নিয়েছেন বলে দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায়, ঘটনার প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
অগ্নিমিত্রা বলেন, মঙ্গলবার সকালে তিনি নিজে নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ‘মেয়েটির বাবা নিজেই বলেছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রী বারবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। আইজি, এসপি-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরাও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।’
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারও জিরো টলারেন্সের কথা বলেছিল, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়নি। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার কাজে দেখিয়ে দিয়েছে। মূল অভিযুক্ত-সহ প্রায় সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, একজন এখনও পলাতক।’
অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘যেভাবে মেয়েটির উপর অত্যাচার হয়েছে, তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। আইন মেনেই কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে করদাতাদের টাকায় তাদের সারাজীবন জেল খাওয়ানো হবে কি না, সেটাও ভাবার বিষয়।’
ঘটনার নেপথ্যে মাদকাসক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদের ঠেকের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চালানো হবে। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী আগেও বলেছেন, আবারও কঠোর নির্দেশ দেবেন—পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সব বেআইনি মদের ঠেক ভেঙে দিতে হবে। বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান ছাড়া কোনও বেআইনি মদের দোকান থাকতে দেওয়া হবে না।’
অগ্নিমিত্রার দাবি, ‘শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের নীতি হল—মহিলাদের বিরুদ্ধে হোক বা অন্য কোনও ধরনের নৃশংসতা, যে কোনও অত্যাচারের বিরুদ্ধেই জিরো টলারেন্স।’
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সরকারে থেকে দায়িত্বশীলভাবে কথা বলতে হয়। তবে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের বিচার কতজন পেয়েছেন, তার জবাব বাংলার মানুষই দেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।




