পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ময়দানে পা রেখেই তৃণমূল ও বাম দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোনামুখীর জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, ‘ বাংলায় খেলা শেষ হবে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুরু হবে উন্নয়ন।’
বৃহৎ জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে লাগাতার হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী রয়েছেন, বাংলায় বিজেপি সরকার এলে ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হবে, যা দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে।’
Advertisement
স্থানীয় ভাষায় বক্তব্য রেখে তিনি বলেন, ‘খেলার সময় শেষ হবে, বিজেপি জিতলেই উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।’ একইসঙ্গে তিনি সোনামুখী থেকে দিবাকর ঘরামি, ইন্দাস থেকে নির্মল ধাড়া এবং বরজোড়া থেকে বিলেশ্বর সিংহকে জয়ী করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে এক দলিত হিন্দুর হত্যার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারের নীরবতাকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যোগী। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘু ভোট হারানোর ভয়ে এই বিষয়ে মুখ খুলছে না রাজ্য সরকার।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি বাংলার জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে।’ কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলকে একসঙ্গে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, এরা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে। নবরাত্রির মতো ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং বাংলার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের অবদানের কথাও স্মরণ করেন যোগী। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদের ভূমিকে তোষণ, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার জায়গায় পরিণত করেছে।’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, শোষণ ও অপশাসনের জেরে বাংলা আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।
শেষে তিনি দাবি করেন, যেখানে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, সেখানে পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
Advertisement



