অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই উদয়নারায়ণপুরের ভবানীপুর বিধি চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলটিকারি এলাকায় পথ অবরোধ করেন এলাকার মহিলারা। এবার তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাস্তাতেই। বারবার চেষ্টা করেও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না বলে অভিযোগ। অথচ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তাঁরা পেতেন বলে জানিয়েছেন। কেন এখন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকল না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বারবার বিশ্বাস করেও মেলেনি টাকা। অখচ এই টাকা সংসার চালানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে দাবি তাঁদের।
এদিন সকালে শতাধিক মহিলা সেহাগড়ি উদয়নারায়ণপুর রাস্তায় কুলটিকারি এলাকায় রাস্তার উপর গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ করে দেন। তারপর সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সপ্তাহের প্রথমদিনে এই অবরোধের জেরে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলকে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা দিয়েছেন। সরকারি সূত্রে দাবি এমনই। খোদ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মহিলাদের হাত শক্ত করতে চান। তাই এই টাকা দিচ্ছেন এবং আরও দেবেন বলে জানিয়েছেন। যাঁরা এখনও পাননি তাঁদের নথি যাচাই করে দেওয়া হবে বলেও আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মহিলারা ধৈর্য্য ধরতে পারছেন না।
সামনেই দুর্গাপুজো। তাই মহিলারা চান অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে তা দিয়ে শপিং করতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তা অনুধাবন করেছেন। তাই সমস্যা জানাতে বিশেষ নম্বর এবং ইমেল আইডি দিয়েছেন। সেখানে অভিযোগ জানালেই এখন কাজ হচ্ছে। সেখানে বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ ৪ মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত অনেকের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি। এই বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বিডিও অফিসে গেলেও কেউ কোন কথা বলছেন না। সদুত্তর মিলছে না। তাই ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটছে। এমনকী স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, এই বিষয়ে এলাকার বিধায়ক সমীর পাঁজাও কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওটায় সরগরম হয়ে উঠেছে উদয়নারাযণপুর।
তাছাড়া উপযুক্ত মহিলারা যাতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পান তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দপ্তরকে। রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা আছে টাকা দেওয়ার। কিন্তু সেখানে কোনও ত্রুটি থেকে যাচ্ছে আবেদনকারী মহিলাদের পক্ষ থেকে বলে জানা গিয়েছে। তাই প্রসেসিং থেকে যাচ্ছে অনেকের। আবার অনেকের রিজেক্ট হয়ে গিয়েছে। এই আবহে সব মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না দিলে বাকিদেরও টাকা পাঠানো বন্ধের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। একঘন্টা বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশের আশ্বাসেও পথ অবরোধ না তুললেও মোটরবাইক-টোটো যাওয়ার রাস্তা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু কোন গাড়ি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বিডিও অফিসের আধিকারিকরা এসে কথা না বললে অবরোধ তোলা হবে না। পরে অবশ্য উঠে যায়।




