• facebook
  • twitter
Monday, 18 May, 2026

সামনেই ১২৭ পুরসভা নির্বাচন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় ভোট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই

দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচন না হওয়া হাওড়া পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ভোট করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত পুরভোটের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময়েই দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচনহীন অবস্থায় থাকা আরও ১৫টি পুরসভায় ভোট করানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এই বৃহৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পথে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ দিন শূন্য থাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদ ছাড়ার পর এখনও নতুন কমিশনার নিয়োগ করা হয়নি। পাশাপাশি কমিশনের সচিব পদও ফাঁকা রয়েছে, কারণ নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্য অবসর নিয়েছেন। এমনকি যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিকও বর্তমানে কমিশনে নেই বলে প্রশাসনিক মহলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী ন’মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার নির্বাচন সময়মতো সম্পন্ন করা নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Advertisement

বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। প্রশাসক নিয়েই চলছে পুর প্রশাসনের কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে হাওড়া পুরসভা, যেখানে গত ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাওড়া-সহ সমস্ত পুরসভার নির্বাচন নিয়ে খুব শীঘ্রই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে।

Advertisement

যে সব পুরসভায় দীর্ঘ দিন নির্বাচন হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি এবং ধূপগুড়ি পুরসভা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশের শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে।

তবে নির্বাচন কমিশনে পর্যাপ্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক না থাকায় এতগুলি পুরসভায় একসঙ্গে ভোট আয়োজন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকের মত, আগে কমিশনের শূন্যপদ পূরণ করা জরুরি। সেই কারণে পুজোর আগে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী বছরের শুরুতে রাজ্যের বাকি ১১২টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ফলে আটকে থাকা পুরসভাগুলিকে সঙ্গে নিয়েই বড় আকারে পুরভোট আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

 

Advertisement