• facebook
  • twitter
Thursday, 23 April, 2026

বিকেল ৫টায় সস্ত্রীক নন্দলাল বসুর নাতি ভোট দিতে পারবেন, ব্যবস্থা করল কমিশন

সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকের দপ্তরে জরুরি বার্তা পাঠানো হয় এবং জানানো হয়, রিটার্নিং অফিসারের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে

আইনি লড়াই, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়েছিলেন চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রী। তবে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। শেষ পর্যন্ত কমিশনের নির্দেশে বিকেল ৫টায় তাঁদের ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বোলপুরের একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যান অশীতিপর এই দম্পতি। কিন্তু বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা তাঁদের জানান, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। এরপর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের নথি দেখালেও অভিযোগ, সেটি গ্রহণ না করে তাঁদের জানানো হয় সিউড়িতে জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে লিখিত অনুমতি আনতে হবে। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এত দূর যাত্রা করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা ভোট না দিয়েই ফিরে যান।

Advertisement

ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ করে। সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকের দপ্তরে জরুরি বার্তা পাঠানো হয় এবং জানানো হয়, রিটার্নিং অফিসারের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংশোধন করে বিকেল ৫টার পর বুথে এসে ভোট দেওয়ার জন্য ওই দম্পতিকে অনুরোধ জানানো হয়।

Advertisement

প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় তথ্যগত ভুলের কারণে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। পরে তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, তাঁদের আবেদনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। শুনানির পরেও তাঁদের নাম খসড়া তালিকার ‘বিবেচনাধীন’ অংশে থেকে যায় এবং চূড়ান্ত তালিকায় ওঠা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

অবশেষে কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভোটাধিকার ফিরে পান এই দম্পতি। তবে ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসনিক গাফিলতি ও বুথ স্তরের প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নাগরিক মহলে।

Advertisement