দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে অ্যাকশন মোডে দেখা যায়। উত্তরপ্রদেশের এই অভিজ্ঞ অফিসার, যিনি ‘সিংঘম’ নামেও পরিচিত, এদিন সকাল থেকেই কড়া নজরদারি শুরু করেন। তাঁর কনভয় সাঁজোয়া গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, যাতে ভোট নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
তবে সকাল থেকেই একাধিক জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে আসতে থাকে। এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় ফলতা বিধানসভা এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা অভিযোগ করেন, দেবীপুরের ১৭৭ নম্বর বুথে ইভিএমে বিজেপি প্রতীকের উপর টেপ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি সরাসরি তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন এবং ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান।
Advertisement
অন্যদিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটির সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং বিষয়টি অকারণে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই বুথের বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
Advertisement
পরবর্তীতে জানা যায়, অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ইভিএমটি বদল করা হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, ভোটের দিন সকাল থেকেই ভাঙড়ে দফায় দফায় উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। বিস্ফোরণ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের দুটি পৃথক মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। সেই সূত্রেই এদিন সকাল থেকে এনআইএ আধিকারিকরাও ভাঙড়ে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
Advertisement



