ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও ফর্ম ৭ জমা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বুধবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল চারটে নাগাদ বিবাদী বাগে সিইও-র অফিসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন পার্থ ভৌমিক, মানস রঞ্জন ভুঁইয়া, শশী পাঁজা, সায়নী ঘোষ এবং সমীর চক্রবর্তী। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের তরফে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
Advertisement
তৃণমূল নেতা পার্থ ভৌমিক জানান, মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় বিজেপি কর্মীদের একটি গাড়ি থেকে একাধিক ফর্ম ৭ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি তিন জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুধু বাঁকুড়াই নয়, একই দিনে ময়না, তমলুক, ব্যারাকপুর এবং হুগলির বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে বহু ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। তাঁদের দাবি, এই ভাবে ‘ফর্ম ৭’ জমা দেওয়া নির্বাচনী আইন বিরোধী। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে।
Advertisement
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই সিইও দপ্তরে আসা হয়েছে বলে জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। প্রথমত, একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কতগুলি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা শুনানির সময় প্রয়োজনীয় নথি জমা দিচ্ছেন, তাঁদের রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য অবিলম্বে প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, একাধিক জায়গায় মাইক্রো অবজার্ভাররা এআরও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ তুলে ধরা হয়। চতুর্থত, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে নামের সামান্য তারতম্য— যেমন কোথাও ‘কুমার’ পদবি থাকা বা না থাকা নিয়ে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। এই ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কপি জমা দেওয়ার অনুমতি না দিলে, কীভাবে প্রমাণ হবে যে একই ব্যক্তি সম্পর্কে ভুল ধরা হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।
তৃণমূলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেন কোনওভাবেই গণতন্ত্র হরণের চেষ্টা না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Advertisement



