প্রথম দফার ভোটের প্রচারপর্বের শেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একের পর এক জনসভা করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর অত্যন্ত ব্যস্ত কর্মসূচি ছিল— কার্শিয়াং, কুলটি, শালবনি এবং চণ্ডীপুরে মোট চারটি জনসভা করে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।
দিনের শুরুতেই পাহাড়ের কার্শিয়াংয়ে সভা দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এর আগে দার্জিলিংয়ে সভা করার ইচ্ছা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার উড়তে পারেনি। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আবার ফিরে আসবেন, এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই এদিন পাহাড়ে উপস্থিত হয়েছেন। এই সভা থেকেই তিনি আত্মবিশ্বাসী সুরে দাবি করেছেন, এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
Advertisement
তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও অত্যাচার চলছে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন চান এবং ভোটের মাধ্যমেই সেই পরিবর্তন আসবে। ‘মমতাদিদিকে টাটা-বাই বাই বলার সময় এসে গিয়েছে’।
Advertisement
পাহাড়ের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং গোর্খা সম্প্রদায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকারের বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।
কার্শিয়াংয়ের সভা শেষে তিনি কুলটিতে যান। সেখান থেকেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে তোপ দেগেছেন। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জনসভায় পৌঁছে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে রাজ্যের যুবকদের চাকরির সুযোগ কমছে এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
শালবনির সভা থেকে তিনি আরও বলেছেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলার কৃষিপণ্য অন্য রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে চাষিরা লাভবান হন।
এরপর কুলটির সভায় শাহ বলেছেন, ‘আগামী ৫ তারিখ (মে) বিজেপিকে সরকার গড়তে দিন।
Advertisement



