বরাবরই চাঁচাছোলা ভাষায় কথা বলে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীরামপুর কেন্দ্রের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী অনেক সময়ই কুকথা বলেও তাঁর বিপক্ষের দলের নেতা-মন্ত্রীদের আক্রমণ করে থাকেন পেশায় এই আইনজীবী। সেটা সংসদে হোক বা মিটিং-মিছিলে। আগা-গোড়া ঠোঁট কাটা বলেই পরিচিত এই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। এবার তাঁর কুরুচিকর মন্তব্যের জেরেই বিপাকে পড়তে হতে পারে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে। কারণ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে কল্যাণের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল হুগলির শ্রীরামপুর থানায়।
এদিকে এবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এখন তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী আসনে বসেছে। তারপরও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে চলেছেন তিনি। এবার বিজেপির অভিযোগ, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে প্রকাশ্যে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। এই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে করা সাম্প্রতিক মন্তব্য অপরদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগে রাখা হয়েছে পুরনো প্রসঙ্গও। সেই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর শ্রীরামপুরের নানা এলাকায় যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল সেটার নেপথ্যে উস্কানি ছিল এই তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের। আইনজীবী-সাংসদের মন্তব্যের জেরেই এলাকায় দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
এছাড়া রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হুমকি, মারধর, তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগ উঠেছিল। এবার ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে কল্যাণের নাম জড়িয়ে গেল ওই তালিকায়। সই জাল কাণ্ড থেকে শুরু করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার জেরে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আর তারই মধ্যে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এফআইআর দায়ের হলো। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হলো এফআইআর। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।




