• facebook
  • twitter
Friday, 20 February, 2026

‘বলি’ শুধু ডব্লুবিসিএসরাই অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে এক আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন।

প্রতীকী চিত্র

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)–এর কাজে গাফিলতির অভিযোগের ক্ষেত্রে আইএএস অফিসারদের আড়াল করে ডব্লুবিসিএস অফিসার সহ নিচু তলার একাধিক অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় রাজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের আমলাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, এসআইআরের কাজে গাফিলতির অভিযোগে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ জন ইআরও–এইআরওকে সাসপেন্ড করা হলেও কোনও জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)–কে ন্যূনতম শো–কজ পর্যন্ত করা হয়নি। বিভিন্ন রাজ্য সরকারি কর্মচারী আধিকারিক সংগঠনের নেতা–সদস্যদের অভিযোগ, কমিশন বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। আইএএস অফিসারদের আগলে রাখার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে। কারণ তিনি পশ্চিমবঙ্গ আইএএস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে রয়েছেন। সংগঠনের সম্পাদক পদে রয়েছেন স্মিতা পান্ডে। স্মিতাকে রোল অবজার্ভার হিসেবে নিযুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে আইএএসদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।

মূলত ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্লুবিসিএস), রেভিনিউ সার্ভিস, এগ্রিকালচার সার্ভিস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অতিরিক্ত ইআরও (এইআরও) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের উপরে রয়েছেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)। পদাধিকার বলে ডিইও হলেন জেলাশাসক। তাঁরা মূলত ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) ক্যাডারের অফিসার। জেলাওয়ারি এসআইআরের কাজে সর্বোচ্চ দায়িত্ব এই সকল অফিসারদেরই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গাফিলতির অভিযোগে শুধুমাত্র রাজ্যের অফিসারদের উপরে শাস্তির খাঁড়া নামছে কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে এক আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত রোল অবজার্ভার পদে থাকা ওই অফিসার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দিয়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের বলেছেন, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের দেওয়া জন্মের সংশোপত্র গ্রহণ করা যাবে না। তবে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানই সাব রেজিস্ট্রারস অফ বার্থ অ্যান্ড ডেথ হিসেবে স্বীকৃত। এদিকে রাজ্যের বহু মানুষ ইতিমধ্যেই প্রধানের দেওয়া এই নথি জমা দিয়েছেন। সেই বিরাট অংশের ভোটার বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইএএস অফিসারদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

Advertisement