গত ১৫ বছর ধরে গ্রামবাসীরা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের অত্যাচার মুখ বন্ধ করে সহ্য করছেন। রাজ্যে পরিবর্তন হওয়ার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের গ্রামবাসীরা তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শেখ মাজেদ আলি শাজাহান খান সহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসীদের উপর গত ১৫ বছর ধরে নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ৪২ জনকে জমির পাট্টা দেওয়া হয়েছিল সেই জমি দখল করে রাখা হয়েছে। যাঁরা পাট্টা পেয়েছিলেন তাঁদেরকেও দেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নাম উঠা সত্ত্বেও তাঁদেরকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
শৌচাগার তৈরির জন্য টাকা দিয়েও শৌচাগার নির্মাণ হয়নি। এছাড়াও গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তোলা হয়েছে বলে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। সেই সঙ্গে গ্রামের মানুষের টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ মাজেদ আলির বাড়িতে ১৫টি বন্দুক রয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এদিন ঝাঁটা জুতো হাতে নিয়ে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখায়।
Advertisement
তাঁদের দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অন্যায় ভাবে টাকা নিয়েছে, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। জমির পাট্টা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাড়িতে থাকা বন্দুক পুলিশকে উদ্ধার করতে হবে বলেও তাঁরা দাবি জানান। না হলে এলাকায় আরও অশান্তি চালানো হবে বলে অভিযোগ।
Advertisement
দু’দিন আগে এলাকায় বোমাবাজির ঘটনাও ঘটে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন। রাজ্যে পালাবদলের পর পরই তাই গ্রামবাসীরা এক জোট হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের অত্যাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। যার ফলে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গ্রামবাসীরা কেশপুর থানার পুলিশকে সমস্ত কিছু জানায়। দ্রুত সমস্যার সমাধান করা না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে গ্রামবাসীরা নামবেন বলে জানান তাঁরা। তবে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা এলাকায় নেই বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
Advertisement



