নতুন সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ১ জুন থেকে স্কুলে স্কুলে প্রার্থনায় গাইতে হবে ‘বন্দেমাতরম গান’। সেই মতো জেলায় জেলায় ডিআই বা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। সেই মতো, এদিন সকালে আসানসোলের উমারানি গড়াই মহিলা কল্যান স্কুলে প্রার্থনায় ‘বন্দেমাতরম’ গানটি গাওয়া হয়। পড়ুয়াদের সঙ্গে স্কুলের টিআইসি বা টিচার ইনচার্জ পাপিয়া ঘোষ সহ অন্য শিক্ষিকরা গানে গলা মেলান। প্রসঙ্গত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটির প্রথম দু’টি স্তবক ১৮৭৫ সালে রচিত হয়েছিল।
সেই হিসেবে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর গানটি তার ১৫০তম বছর বা সার্ধশতবর্ষ পূর্ণ করেছে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই গান ১৮৮২ সালে প্রকাশিত বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৯৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গানে সুর দেন। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান এই গানটিকে ‘জাতীয় গান’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।
Advertisement
গানের স্তবকগুলিতে দেশকে দেবী হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাওয়া হয় ‘বন্দেমাতরম’ গানটি। উক্ত অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৫০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা লাভ করলে ‘বন্দেমাতরম’ গানটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়।
Advertisement
১৯০৯ সালে শ্রী অরবিন্দ ঘোষ ‘বন্দে মাতরম’ গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। ইংরেজি ভাষায় এই অনুবাদটি বহুল প্রচলিত। একাধিকবার এই গানটিতে সুরারোপ করা হয়। ‘বন্দে মাতরম’ সব থেকে পুরনো রেকর্ড পাওয়া যায় ১৯০৭ সালে। গানটি প্রায় একশোটি ভিন্ন সুরে রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০০২ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দশটি জনপ্রিয় গান নির্বাচনের একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা চালায়। এই সমীক্ষায় ৭০০০ গানের মধ্যে থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সুরারোপিত বন্দে মাতরম গানটি বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয়তম গান হিসেবে নির্বাচিত হয়।
Advertisement



