রোজই ট্রেন দেরি করে। আর তার জেরে নাকাল হতে হয় নিত্যযাত্রীদের বলে উঠেছে অভিযোগ। এই নিয়ে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। শুক্রবার মহাষষ্ঠীর দিনে এই ট্রেন দেরিতে চলার প্রতিবাদে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন রেলযাত্রীরা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, ‘রোজ ট্রেন লেট কেন?’ এই প্রশ্ন তুলে এদিন রেললাইনে নেমে হঠাৎ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। আর তাঁদের এই হঠাৎ প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভের জেরে হুগলির কামারকুণ্ডু স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ল ‘হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’। আর তার জেরে স্টেশন চত্বরে মুহুর্তের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মহাষষ্ঠীর সকালে এমন রেল বিভ্রাট হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে কামারকুণ্ডু স্টেশনে তুমুল যাত্রী বিক্ষোভ চাপে ফেলে দেয় চালক এবং সহকারিদের। আর এই বিক্ষোভের জেরে প্রায় একঘন্টা দাড়িয়ে রইল আপ হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। জানা গিয়েছে, আপ( ২২৫০৩) কন্যাকুমারী-ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেস খুব দেরিতে চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কামারকুণ্ডু স্টেশনে ঢোকার বদলে শুক্রবার সকালে ট্রেনটি কামারকুণ্ডুতে পৌঁছয়। তারপরেও ট্রেনটি কামারকুণ্ডু স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এই কারণে নাকাল পরিস্থিতি তৈরি হয় যাত্রীদের।
এই অবস্থার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রেলের ঊর্ধ্বতন অফিসাররা। কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা সরাসরি আন্দোলনকারী যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আর তাঁদের ক্ষোভ এবং অভিযোগ শোনার পর শান্ত করার চেষ্টা করেন। রেলের অফিসারদের মধ্যস্থতায় এবং আশ্বাসে অবশেষে সবটা স্বাভাবিক হয়। এই বিক্ষোভের জেরে প্রায় একঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকার পর কিছুক্ষণ আগে কামারকুণ্ডু স্টেশন ছেড়ে গয়ার উদ্দেশ্যে আবার রওনা দেয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। তার আগে কন্যাকুমারী-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসের যাত্রীরা স্টেশনে নেমে পড়ে লাইনের উপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আপ ২২৩০৩ হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত দাঁড় করিয়ে দেন যাত্রীরা।
তাছাড়া এদিন বিক্ষোভ শেষে সকাল ৮টা ৪ মিনিটে হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত রওনা দেয়। এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, ‘বিবেক এক্সপ্রেস দেরিতে চলছিল। আমাদের জোনে যখন ঢোকে তখনও লেট ছিল। কামারকুণ্ডু স্টেশনে যখন ট্রেনটি দাঁড়ায়, তখন যাত্রীরা বিক্ষোভ দেখান। এখন সব ঠিক হয়ে গিয়েছে।’ মহাষষ্ঠীর সকালে এই ঘটনায় হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন শাখায় রেল চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।




