উত্তরবঙ্গে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। তার জেরে কোথাও ধস, কোথাও রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গ ঘুরতে যাওয়ার জন্য পর্যটকরা টিকিট কেটে ফেলেছেন। এখন তাঁরা ভাবতে শুরু করেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং থেকে সিকিম, গ্যাংটক যাওয়া বাতিল করতে হবে। তাহলে কি উত্তরবঙ্গ সফর করা যাবে না? উঠছে প্রশ্ন। কারণ সেখানে বৃষ্টি, ধস অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার আবার ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বরদাং এলাকা-সহ একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে সিকিমে। কোথাও রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্তিতিতে পাহাড় কেটে রাস্তা চওড়া করা হচ্ছে। তারপরও কতটা স্বস্তি মিলবে সেটা নিয়ে সন্দিহান সব পক্ষই। কারণ শনিবার কোথাও কোথাও ফাটল ধরা পড়েছে। তাই দুর্গাপুজোয় সিকিম ভ্রমণ নিয়ে যাঁরা পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা দোটানায় রয়েছেন। পর্যটকরা এখন ভাবতে শুরু করেছেন, কোন পথে পৌঁছবেন তাঁরা উত্তরবঙ্গে। ইতিমধ্যেই পর্যটকরা ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। কোনও কোনও পর্যটক সফর বাতিল করার কথা পর্যন্ত বলেছেন। যদিও ট্যুর অপারেটররা মনে করছেন দুর্গাপুজোর আগে আবহাওয়া ঠিক হয়ে যাবে। এবারও পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়বে সিকিমে।
কিন্তু সত্যিই কি তাই? এখনও পর্যন্ত প্রকৃতির যে খামখেয়ালিপনা চলছে তাতে পর্যটকরা ভরসা করতে পারছেন না। এখানে ধসের জেরে শুক্রবার থেকে দার্জিলিংয়ে বন্ধ ছিল টয়ট্রেন পরিষেবা। শনিবারও সেই অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার রাতে তিনধারিয়ার কাছে টয়ট্রেনের লাইনের উপর পাহাড়ের মাটি-পাথর আছড়ে পড়ে। আর তার ফলে টয়ট্রেন যাতায়াত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, ধস সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। শীঘ্রই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে। যদিও শনিবার টয়ট্রেন চলছে না বলেই খবর।
তাছাড়া নাগাড়ে মুষলধারায় বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে প্রতিনিয়ত নেমে আসছে কাদা, পাথর। তার জেরে সিকিমের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইলের বারদাং এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ফলে সিংতাম-রংপোর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিকল্প রুট সাওয়ানে, চেউরিবোটে এবং ডুগাখোলা হয়ে সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। গ্যাংটকে রানিপুল থেকে সিংতাম রোডের কাপ্পুরায় বিকল্প সিঙ্গেল লেন, সিংতাম থেকে ৩২ নম্বর রোডে স্টোন এজে বিকল্প সিঙ্গেল লেন চালু আছে। সিরওয়ানি স্লাইডিং এরিয়ায় বিকল্প সিঙ্গেল লেন। পাকিয়ং থেকে রানিপুল রোড ভায়া আহো এলাকায় রাস্তা চওড়া করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ট্যুর অপারেটর সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘দুর্গাপুজোর আগে থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেন। মহালয়া থেকে শুরু হয়। তখন থেকে আবহাওয়ার অনেকটাই অনুকূল হবে বলে মনে করছি। পাহাড়েও তখন পর্যটকরা ভিড় করবে।’




