ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে তাঁর ডায়লগ ছিল, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি’। কিন্তু নির্বাচনের দুদিন আগেই দেখা যায় ভোটের ময়দান থেকে সরে গেল স্বঘোষিত পুষ্পা। সুতরাং লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে যেতেই আওয়াজ উঠেছিল, পুষ্পা ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। এমনকী ভোটের দিন থেকে শুরু করে তার পরও আর দেখা যায়নি জাহাঙ্গির খানকে। বাড়িতেও তালা দেওয়া। কাউকে দেখা যাচ্ছিল না। তাহলে কোথায় ছিলেন এই জাহাঙ্গির তথা স্বঘোষিত পুষ্পা? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। পুলিশও হন্যে হয়ে খুঁজছিল জাহাঙ্গিরকে। অবশেষে সোমবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল জাহাঙ্গির খান তথা পুষ্পা।
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, ফলতার এই তৃণমূল নেতাকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এবার তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। নেপাল সীমান্ত ধরে পালানোর ছক কষেছিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। কিন্তু গোপন সূত্রে সেই খবর এসে পৌঁছয় এসটিএফের কাছে। তখন সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফের আধিকারিকরা। হাতেনাতে ধরা হয় ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে। আর তখনই ফলতার ‘পুষ্পা’র জারিজুরি শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে ভোটের ময়দান থেকে সরে আসার সময় জাহাঙ্গির খান সাফাই দিয়েছিলেন, ‘আমি চাই ফলতায় শান্তি থাকুক। অনেক উন্নয়ন হোক। সোনার ফলতা হোক, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তাই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।’ এই সাফাই দিয়ে গা ঢাকা দেয় জাহাঙ্গির খান। এই জাহাঙ্গির খান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। এটা ওই এলাকার সকলেই জানেন। তবে জাহাঙ্গির খান তখন থেকেই অন্তর্ধানে চলে যান। তখন থেকে ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফ যৌথভাবে একাধিক জায়গায় অভিযান চালায়।
তাছাড়া তাঁকে যাতে পুলিশ ধরতে না পারে তার জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এত কিছু করার পরও নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না স্বষোষিত পুষ্পা। সূত্রের খবর, বাংলা-নেপাল সীমান্তে গা ঢাকা দিয়েছিলেন স্বঘোষিত পুষ্পা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সন্তান। মোবাইল নম্বর বদলে ফেলে নেপাল পালাতে চেয়েছিলেন তিনি। বাচ্চাদের নাকি নেপালের স্কুলে ভর্তি করার জন্য একটা ব্যবস্থাও করে ফেলেছিলেন। তবে এই নতুন মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করেই বেঙ্গল এসটিএফের তদন্তকারীরা জাহাঙ্গিরের খোঁজ পান। আর নেপাল সীমান্ত থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলায় রক্ষাকবচ পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফলতার ওই তৃণমূল নেতা।




