• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

তৃণমূলের মহিলা বিধায়কের গোডাউন থেকে বিপুল ত্রানসামগ্রী উদ্ধার, সাঁকরাইলে পুলিশ

একজন মহিলা বিধায়কের ডেরাতেও যে ত্রানসামগ্রী পাওয়া যাবে সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের থেকে শুরু করে কাউন্সিলর এবং নেতাদের ডেরায় ত্রানসামগ্রী রয়েছে। ওই পড়ে থাকা ত্রানসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এই ত্রামসামগ্রী সরিয়ে নিজেদের ডেরায় রাখা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তার জেরে মানুষের ক্ষোভ যেমন আছড়ে পড়েছে তেমন জেলেও যেতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও বিষয়টি থামছে না। এবার হাওড়া সাঁকরাইলের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক প্রিয়া পালের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রানসামগ্রী সরানোর অভিযোগ উঠল। কারণ শুক্রবার বিধায়কের সারেঙ্গায় থাকা গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ত্রানসামগ্রী।

এদিকে একজন মহিলা বিধায়কের ডেরাতেও যে ত্রানসামগ্রী পাওয়া যাবে সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কেন রেখেছিলেন বিপুল ত্রানসামগ্রী? উঠছে প্রশ্ন। এই ত্রানসামগ্রী আসন্ন বর্ষায় মানুষের কাজে লাগবে। সেটা একজন বিধায়কের ডেরায় পড়ে থাকা নিয়ে চুরির অভিযোগ উঠছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার তিনটি ম্যাটাডোরে করে এই বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি, ধুতি-সহ নানা ত্রানসামগ্রী সারেঙ্গায় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের গোডাউন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেটা দেখতে পেয়েই গ্রামবাসীরা গাড়িগুলি আটকান। তখন সামনে চলে আসে মহিলা বিধায়কের কীর্তিকলাপ।

অন্যদিকে এই ত্রানসামগ্রী যদি মানুষের জন্য রাখা হবে তাহলে তা সরানো হচ্ছিল কেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ত্রানসামগ্রী বাইরে বিক্রি করে টাকা তোলার ছক ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। এই ত্রানসামগ্রী গরিব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা পাননি বলেই অভিযোগ। এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তখন সেখানে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য সাঁকরাইল থানার পুলিশ পৌঁছে যায়। সরকারি অফিসাররা এমন অবস্থায় নথি গ্রামবাসীদের দেখালে বিক্ষোভ থামিয়ে দেন তাঁরা। তারপর বিধায়ক প্রিয়া পালের হিরাপুর গ্যারাজ থেকেও ত্রিপল উদ্ধার করা হয়েছে। সাঁকরাইল থানার পুলিশের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি তল্লাশির দাবি জানান।

তাছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, গোডাউন-গ্যারেজে যদি এই পরিমাণ সামগ্রী থাকে তাহলে বাড়িতে তল্লাশি করলে আরও কিছু মিলবে। বিজেপির অভিযোগ, ত্রানের জিনিসপত্র বাইরে পাচার করা হচ্ছিল। তরপর সব খোলা বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন বিধায়ক। যদিও বিধায়ক প্রিয়া পালের সাফাই, ‘যেসব ত্রানসামগ্রী বিলি হয়নি সেগুলি ফেরত পাঠাতেই জেলাশাসককে চিঠি লিখেছিলাম। আর তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রানসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। এসবের সঙ্গে দুর্নীতির কোনও যোগ নেই।’