• facebook
  • twitter
Tuesday, 21 April, 2026

আমার তিনটে ওয়ার্ডে ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে : মমতা

প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন মোদী ও অমিত শাহ। এ প্রসঙ্গে মমতার অভিযোগ, ভোটের দিন মানুষকে মিসলিড করতেই ভাষণ দিতে আসছে।

প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার আগে মঙ্গলবার চারটি জনসভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর ও জগদ্দলে দু’টি সভা করেন। প্রতিটি সভা থেকেই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। নিশানা করেছেন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। জগদ্দলের সভায় মমতা কমিশনকে সরাসরি চ্যালঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘আমার বিধানসভা এলাকায় ৭৭ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড-সহ তিনটে ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে। ওই তিন ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে। কিন্তু আমি এমন ধাপ্পা দেব না, বুঝবে ঠ্যালা। ধোঁকার ডালনা খাওয়াব। বিচুটি পাতার ঝোল খাওয়াব। তোমরা আমাকে চেন না। যেখানে তুমি গন্ডগোল করবে, সেখানেই আমি হাজির হয়ে যাব। পারলে তুমি আমাকে আটকাও।’

অন্যদিকে, ব্যারাকপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে কার্যত কমিশনের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ কার্যকর করার ফাইলটি নির্বাচন কমিশন আটকে রেখেছে। সে কারণেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না। ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে বলেছিলাম ৪ শতাংশ ডিএ দেব। নির্বাচন কমিশন সেই ফাইল আটকে রেখেছে। আমার অনুরোধ, সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে দ্রুত ফাইল ছাড়ুন। এটা তো আপনাদের দেখারই কথা নয়, কারণ এটা ভোটের আগের ঘোষণা।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, বর্ধিত ৪ শতাংশ ডিএ এপ্রিল মাসের বেতনের সঙ্গেই সরকারি কর্মীরা পেয়ে যাবেন।

Advertisement

মমতার আশঙ্কা, ভোটের আগে জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তারপরই তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কি ভয় পাচ্ছেন? জগদ্দলের সভাতেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা ভোটের দিন থেকে গণনার দিন পর্যন্ত গণ্ডগোল পাকাতে পারে। আমি খবর পেয়েছি, বুথ থেকে কাউন্টিংয়ের জন্য মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় ইভিএম বদলে দিতে পারে। তৃণমূলের ভোট কমাতে এবার কম্পিউটারে গোনা হবে বলছে। তবে ওদের সব চালাকি আমরা রুখে দেব।’

Advertisement

প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন মোদী ও অমিত শাহ। এ প্রসঙ্গে মমতার অভিযোগ, ভোটের দিন মানুষকে মিসলিড করতেই ভাষণ দিতে আসছে। বিজেপির তোলা অনুপ্রবেশ সমস্যা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন,‘পহেলগামে কী করে হামলা হল? কারা, কীভাবে ওখানে অনুপ্রবেশ করে হামলা করল? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কী করছিল?’ ভোট প্রচারে এসে নেতাজির ঐতিহাসিক মন্তব্যকে স্বামী বিবেকানন্দর বলে উল্লেখ করেছিলেন যোগী। যোগীর ওই মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ওরা বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পরম্পরা কিছুই না জানে।’ বিজেপি এবার তার ইস্তাহারে মহিলা ও যুব সম্প্রদায়কে বড় মাপের আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মোদী সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, ‘তোমরা যদি মহিলাদের এত টাকা দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে তাহলে সেটা বাজেটে বললে না কেন? আসলে তোমরা মানুষকে ধোঁকা দিতে চাইছ। তবে জেনে রাখ, তোমরা যত টাকা দাওনা কেন, সরকার আমিই গড়ব। কারণ, বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবে না।’

তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও এদিন নিশানা করেছেন মমতা। কারণ, তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের মধ্যে থাকা কলিন্স লেনে যাওয়ার অনুমতি দেননি রিটার্নিং অফিসার। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘এত বড় সাহস আমাকে বলছে পারমিশন দেব না। এক জন গদ্দারকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে নিয়ে এসেছে। আমি বলছি নির্বাচনের পরে বিজেপি তোমাকে গভর্নর করে, নাকি রাষ্ট্রপতি করে দেখ। তুমি থাক তো বারুইপুরে। তোমাকে আমরাই বিডিও বানিয়েছিলাম। রিটার্নিং অফিসার হওয়ার যোগ্যতাও নেই তোমার।’ মমতার সভার অনুমতি প্রসঙ্গে সিইও পাল্টা বলেছেন, ‘উনি সভার অনুমতি নেননি। উনি অনলাইনে কোনও আবেদনই করেননি। তবে অফলাইনে আবেদন করেছিলেন।’ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে রয়েছে একাধিক পাটকল। যার বেশিরভাগই হয় বন্ধ, না হয় ধুঁকছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রের উদাসীনতার কারণেই পাটশিল্প ধুঁকছে। আমরা বার বলার পরেও মোদী সরকার পাটের ব্যাগ নেয় না। ওরা পাটকল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মানুষের কথা মাথায় রেখে আমরা পাটকল খোলার
চেষ্টা করি।’

Advertisement