• facebook
  • twitter
Saturday, 17 January, 2026

দ্য স্টেটসম্যান ভিন্টেজ অ্যান্ড ক্লাসিক কার র‍্যালি

র‍্যালির অন্যতম আকর্ষণ ১৯২৩ সালের প্যান্থার স্লোপার

৫৫তম দ্য স্টেটসম্যান ভিন্টেজ অ্যান্ড ক্লাসিক কার র‍্যালি গত রবিবার শুরু হতেই কলকাতার রাজপথ যেন চলমান জাদুঘরে রূপ নেয়। চার চাকার পাশাপাশি এদিন দর্শকদের নজর কাড়ে একাধিক বিরল ভিন্টেজ ও ক্লাসিক টু-হুইলার, যাদের ইঞ্জিনের শব্দে ফিরে আসে অতীতের নস্টালজিয়া। শহরের বুক জুড়ে ছুটে চলা এই বাইক ও স্কুটারগুলি তাদের কারিগরি উৎকর্ষ এবং কালজয়ী নকশায় মুগ্ধ করে তোলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গাড়িপ্রেমীদের।

র‍্যালির অন্যতম আকর্ষণ ১৯২৩ সালের প্যান্থার স্লোপার। সৈয়দ কামাল উদ্দীন হোসেনের মালিকানাধীন এই বাইকটি যত্নে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন তাঁর ভাই সৈয়দ আফজাল উদ্দীন হোসেন। সিঙ্গল সিলিন্ডার, তিন গিয়ার, হ্যান্ড-গিয়ার শিফট এবং ওপেন ভালভ রকার-সহ এই বাইকটি সম্ভবত এখনও সচল অবস্থায় থাকা ভারতের একমাত্র মডেল। তিন প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের হাতে থাকা এই বাইকটি গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত র‍্যালিতে অংশ নিচ্ছে।

Advertisement

এবার বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে ১৯৫৬ সালের ল্যামব্রেটা মডেলটিও। ২০১৮ সাল থেকে র‍্যালিতে অংশ নিয়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে এই স্কুটারটি। ২০২৩ সালে এটি ‘এইচডিএফসি ট্রফি ফর দ্য বেস্ট রিস্টোরড ক্লাসিক মোটরসাইকেল’ অর্জন করে। একই সঙ্গে দর্শকদের মনে ‘রোমান হলিডে’ ছবির স্মৃতি উসকে দেয় ১৯৫৬ সালের ভেসপা স্কুটার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে ইতালির পিয়াজিও সংস্থা এই স্কুটার বাজারে আনে।

Advertisement

র‍্যালিতে চোখ ধাঁধানো উপস্থিতি ছিল ১৯৩৬ সালের জেমস ভিলিয়ার্স বাইকের। প্রয়াত ডা. আবদুল করিমের মালিকানাধীন এই সিঙ্গল সিলিন্ডার টু-স্ট্রোক বাইকটি বর্তমানে তাঁর পুত্র মহম্মদ আবদুল রহিম যত্নে আগলে রেখেছেন। জানা যায়, ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত এই বাইক ব্যবহার হতো ভারতীয় সার্কাসে। নতুন অংশগ্রহণকারী হিসেবে ১৯৫১ সালের ম্যাচলেস বাইকটিও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই র‍্যালির মাধ্যমে কেবল যানবাহনের প্রদর্শন নয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যত্নে সংরক্ষিত এই টু-হুইলারগুলি অতীতের প্রযুক্তি ও নকশার সাক্ষ্য বহন করছে। ভিন্টেজ প্রেমীদের কাছে এই র‍্যালি এমন এক আবেগ, যেখানে কলকাতার রাজপথ হয়ে ওঠে স্মৃতি আর গৌরবের মিলনক্ষেত্র। এই কার র‍্যালিতে অংশগ্রহণ দর্শকদের কাছে শুধুই শখের নয়, বরং সময়ের সঙ্গে ছুটে চলা এক জীবন্ত ইতিহাস ছুঁয়ে দেখারও আনন্দ। এই আয়োজন আগামী দিনেও ঐতিহ্য রক্ষায় অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেই আশা করছেন আয়োজকেরা।

Advertisement