• facebook
  • twitter
Wednesday, 1 April, 2026

ভুল পরিচয়ের মাশুল, এক বছর বন্দিজীবন শেষে ঘরে ফিরছেন মুর্শিদাবাদের শ্রমিক

পেটের টানে কাজে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুতে। আর সেখানেই বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের হাতে আটক হতে হয়।

প্রতীকী চিত্র

পেটের দায়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি। স্বপ্ন ছিল সংসারের হাল ধরার। কিন্তু সেই পথ বেয়েই নেমে আসে দুঃস্বপ্ন। প্রায় এক বছর ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হয় তাঁকে। অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন মুর্শিদাবাদের তরুণ পরিযায়ী শ্রমিক আওয়াল শেখ। তাঁর মুক্তিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার। মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার অন্তর্গত আমডহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তোপিডাঙা এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছরের আওয়াল শেখ। গত বছর মার্চে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর তুথুকুড়িতে। নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে সেখানে নতুন কাজ শুরু করেন তিনি। এর পর আচমকা পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েন আওয়াল। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণেই তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়।

গত ২ এপ্রিল আওয়াল-সহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। পরিবারের দাবি, পরিচয়পত্র আনার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরাসরি ফরেনার্স আইনে মামলা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে। এরপরই শুরু হয় এক দীর্ঘ আইনি লড়াই—একদিকে বন্দিজীবন, অন্যদিকে পরিবার চালানোর অনিশ্চয়তা। পরিবারকে প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়তে হয়।

Advertisement

আওয়াল ছিলেন সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবারে নেমে আসে চরম আর্থিক সঙ্কট। স্বামীকে মুক্ত করার জন্য আইনি খরচ জোগাতে স্ত্রীকে বিক্রি করতে হয়েছে নিজের সোনার গয়না। প্রতিটি দিন কেটেছে উদ্বেগ আর অপেক্ষায়— কবে ফিরবেন বাড়ির ছেলে।

Advertisement

অবশেষে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে মানবাধিকার কমিশনে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় মুক্তি পান আওয়াল। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি নিজের গ্রামে ফিরবেন।

এই ঘটনা আবার সামনে এনে দিল ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিচয়কে ঘিরে সঙ্কটের প্রশ্ন। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন রাজ্যে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলা ভাষা বলার কারণে সন্দেহ, হেনস্থা, এমনকি মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে খুনের অভিযোগও উঠেছে। এই নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল। এমনকী এই ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

আওয়ালের ঘরে ফেরা হয়তো সাময়িক স্বস্তি এনে দেবে, কিন্তু প্রশ্ন হল—এমন ঘটনা আর কতদিন ?

পেটের টানে কাজে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুতে। আর সেখানেই বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের হাতে আটক হতে হয়। এরপর ডিটেনশন ক্যাম্পে কেটেছে প্রায় একটা বছর। অবশেষে জেলমুক্তি মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আওয়াল শেখের। মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার আমডহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তোপিডাঙা এলাকার বাসিন্দা আওয়াল। পরিবারের দাবি, একমাত্র রোজগেরে ছেলে জেলে থাকায় প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের। শুধু তাই নয়, স্বামীকে জেল থেকে ছাড়াতে সোনার গয়না পর্যন্ত স্ত্রীকে বিক্রি করতে হয়েছে। অবশেষে আওয়াল শেখের জেলমুক্তি কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে পরিবারে। 

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে তামিলনাড়ুর তুথুকুড়িতে যান বছর ২৩ এর আওয়াল শেখ। সদ্য কাজে গিয়েছেন। চারপাশে অপরিচিত মানুষের ভিড়। এর মধ্যেই হঠাৎ পুলিশের অভিযান! জানা যায়, গতবছর ২ এপ্রিল আওয়াল শেখ-সহ নয়জনকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্যেই তাঁকে আটক আটক করে সে রাজ্যের পুলিশ। শুধু তাই নয়, পরিচয়পত্র আনার সুযোগ না দিয়েই পুলিশ ফরেনার্স আইনে আওয়াল শেখকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। এরপরেই বাড়ির ছেলেকে ফেরাতে শুরু হয় আইনি লড়াই।

পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে মানবাধিকার কমিশনে মামলা দায়ের করা হয়। শেষমেশ আদালতের নির্দেশের পর এক বছর পর সোমবার সন্ধ্যায় জেলমুক্তি ঘটে আওয়ালের। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই তাঁর বাড়ি ফিরে আসার কথা রয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকমাসে একের পর এক বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী নিগ্রহের ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে খুনের অভিযোগও উঠেছে। যা নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল। এমনকী এই ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর এই বিতর্কের মধ্যেই ফের ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে একবছর ধরে জেলে থাকতে হল বাংলার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

Advertisement