• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

শুনানির সময়সীমা বাড়াতে পারে নির্বাচন কমিশন

পিছতে পারে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

প্রতীকী চিত্র

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, চলতি এসআইআর শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। এর ফলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল, তা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে কমিশনের একটি অংশ।

বর্তমানে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির শেষ দিন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। এর এক সপ্তাহ পরে, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে দেওয়া নির্দেশ এবং মঙ্গলবার জারি হওয়া ১০ দফা নির্দেশিকার পরে গোটা প্রক্রিয়াটিই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শীর্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী বুধবার একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। সেই নির্দেশিকা কার্যকর করতে গিয়েই শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের ক্ষেত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ রয়েছে, তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে এই তালিকা পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে এবং শহরাঞ্চলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিসে এমন ভাবে টাঙাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তা দেখতে পান। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তালিকা গোপন রেখে সংশোধনের নামে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।

Advertisement

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নোটিসপ্রাপ্ত বা সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ভোটাররা নিজেরা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। প্রতিনিধি হিসেবে বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) ভূমিকা রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে, তবে সে ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ-সহ অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক। পঞ্চায়েত কিংবা ব্লক দফতরেই এই নথি জমা নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশগুলির মধ্যে রয়েছে— তালিকা প্রকাশের দিন থেকে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া। এই সময়সীমা তাঁদের জন্য, যাঁরা এখনও দাবি, নথি বা আপত্তি জমা দিতে পারেননি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত, যাতে নথি গ্রহণ ও শুনানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও স্পষ্ট ভাবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উপর বর্তেছে।

এ ছাড়াও আদালত জানিয়েছে, শুনানির সময় ভোটারদের ব্যক্তিগত ভাবে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিতে হবে। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড— যেখানে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে— তা মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্রের বিকল্প নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। এঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি ও নথি যাচাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েই এখন কমিশনের অন্দরমহলে জোর আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতেই এসআইআর শুনানির সময়সীমা এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Advertisement