• facebook
  • twitter
Monday, 16 March, 2026

রাজ্যের ডিজি এবং কলকাতার সিপিকেও সরিয়ে দিল কমিশন, পুলিশে বেশ কিছু বদল

ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে রাজ্যের নতুন ডিজি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে

রাজ্য প্রশাসনে বড় রদবদল করেছিল কমিশন। রাতারাতি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদল করা হয়েছিল। আর সোমবার সকালে পুলিশ প্রশাসনে একাধিক রদবদল ঘোষণা করল কমিশন। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে রাজ্যের নতুন ডিজি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে।

তিনি ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস অফিসার এবং তাঁকে ডিজি ও আইজিপি (ভারপ্রাপ্ত) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরানো হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর পরিবর্তে নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয় নন্দ।

Advertisement

অজয় নন্দা এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। মাওবাদী দমনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। পাশাপাশি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। কলকাতা পুলিশেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) প্রথম আইজি হিসেবেও তিনি একসময় নিযুক্ত হয়েছিলেন।

Advertisement

রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদেও পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই পদে থাকা বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে নতুন এডিজি ও আইজিপি (আইনশৃঙ্খলা) করা হয়েছে ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয় মুকুন্দ রানাডেকে। একই সঙ্গে ডিজি (কারা) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস নটরাজন রমেশ বাবুকে।

এর আগে রবিবার রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর জায়গায় নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে।

রবিবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করেন। এ বার রাজ্যে দু’দফায় ভোট হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট ঘোষণার পরেই প্রশাসনে এই বড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং হিংসামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। সেখানেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল—গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে যথেষ্ট কড়া ভাষায় কথা বলেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। হিংসামুক্ত ভোট করাতে পুলিশকে দায়িত্ব নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। এরপর ভোট ঘোষণা করার পর পরই আইএএস, আইপিএস-দের প্রায় সব পদেই রাতারাতি রদবদল নজিরবিহীন। বিশেষত মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও কয়েকঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কেন্দ্রের শাসকদলের প্রভাব দেখছে রাজ্যের শাসক শিবির।

 

 

Advertisement