বারাসতে বাচ্চা চুরির ঘটনা ভুঁয়ো! বারাসত পুলিশ কর্তৃক মাইকিং এবং একাধিক অভিযুক্ত কে গ্রেফতার

Written by SNS June 19, 2024 8:22 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোট মিটতেই রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলা। এর মধ্যেই এক নতুন বিপত্তি! একের পর এক শিশু তথা কিশোর-কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার রটনা রটছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত শহরজুড়ে। তাতেই আতঙ্কিত বারাসতবাসী। তবে মঙ্গলবার বারাসত থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, বারাসতে কোনও বাচ্চাই নিখোঁজ হয়নি। বরং পুরোটাই ‘গুজব’। কিন্তু তাতেও গুজব ছড়ানো বন্ধ হয়নি। ‘ছেলেধরা’ রটনা নিয়ে বুধবার ধুন্ধুমার কান্ড ঘটল জেলা সদর বারাসত শহরে। ছেলেধরা সন্দেহে এক মহিলা এবং পুরুষ সহ তিনজনকে ধরে গনপিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনির জেরেই গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন ওই তিনজন। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই এদিন রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বারাসত। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষিপ্ত জনতা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ক্ষিপ্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তারপরই গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ মাইকিং শুরু করে। পুলিশের এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। যদিও, বারাসত শহর জুড়ে বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে গুজব ছড়ানো এবং গণপিটুনির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে বারাসত থানার পুলিশ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সপ্তাহ খানেক ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছু বাচ্চা চুরির পোস্ট। এর মধ্যেই অপর এক ঘটনা বারাসতবাসীর ঘুম কেড়েছে। দোকানে খাবার কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল বারাসতের কাজিপাড়ার বাসিন্দা বছর ১১ এর কিশোর ফারদিন নবি। পাঁচদিন পর তার পচাগলা দেহ মিলতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল বারাসতে। যদিও পুলিশ সেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং এখনও সেই ঘটনার তদন্ত চলছে। বুধবার ছেলেধরার গুজবের জেরে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বারাসতের কামাখ্যা মন্দির সংলগ্ন এলাকা। এদিন সকালে প্রথমে ছেলেধরার গুজব ছড়ায় বারাসত পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ায়। গুজবের জেরে সেখানে এক ব‍্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। সেই ঘটনার রেশ গিয়ে পড়ে বারাসত পুরসভার ২২ এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল কামাখ্যা মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। সেখানেও ছেলেধরার গুজবে এক মহিলাকে বেধড়ক মারধর করেন উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনির খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারাসত থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ক্ষিপ্ত জনতাকে বাগে আনতে প্রথমে স্থানীয়দের বোঝানোর চেষ্টা করেন বারাসতের এসডিপিও এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় ক্ষিপ্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। উল্লেখ্য, গণপিটুনিতে জখম মহিলা এবং পুরুষকে উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে আসে বারাসত জেলা হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তাঁরা।

স্থানীয় তৃণমূলের কাউন্সিলর সমীর তালুকদার বলেন, “এই ঘটনার কোনও ভিত্তি নেই। সম্পূর্ণ সন্দেহের বশে এইসব করা হচ্ছে। আমরা জনপ্রতিনিধিরা রাস্তায় আছি। কিছু মানুষ ছেলেধরা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াচ্ছে।পুলিশ বলছে, এটা গুজব। তাও শুনছেন না একশ্রেণীর মানুষ।” এ প্রসঙ্গে বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, “কাজীপাড়ার ঘটনার পরেই বাচ্চা চুরি নিয়ে একটা গুজব ছড়াচ্ছে। মূলত ফেসবুকে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এরফলে অভিভাবকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এদিন একটি স্কুল ছুটির পাঁচ মিনিট হতে না হতেই কেন স্কুলের বাচ্চা বের হচ্ছে না, সেটা নিয়েও ছেলেধরা প্যানিক তৈরি হয়। ছেলেধরা সন্দেহ মারধর করা হয়। আমরা কড়া হাতে ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতির সামাল দিচ্ছি।” পুলিশ সুপার বলেন, “আহত তিনজনের বাড়ি বসিরহাট, দত্তপুকুর এবং আমডাঙায়। এরা কি কারনে এখানে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিনের ঘটনায় ১২ জনকে গগ্রেফতার করা হয়েছে।” পাশাপাশি মঙ্গলেই বারাসত থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বারাসতের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাচ্চা চুরির অহেতুক গুজব রটানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টত সকল কে জানাতে চাই যে, এমন কোন ঘটনা বাস্তবে ঘটেনি। তাই নাগরিকবৃন্দের কাছে আমাদের সনির্বন্ধ আবেদন, গুজবে কান দেবেন না এবং গুজব রটাবেন না। ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে এইসব গুজব ছড়াবেন না। যিনি এই ধরণের গুজব ছড়াবেন, পুলিশ-প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে।” এবার ঠিক তাই করা হলো।